শোকে কাতর মা, একমাত্র ছেলেকে খোঁজেন বাবা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭,   ২৪ রজব ১৪৪২

শোকে কাতর মা, একমাত্র ছেলেকে খোঁজেন বাবা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:০৩ ২৮ জানুয়ারি ২০২১  

ইনসেটে ছেলে তানভীর আহমেদ

ইনসেটে ছেলে তানভীর আহমেদ

আদরের একমাত্র ছেলে তানভীর আহমেদকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল বাবা-মায়ের। কিন্তু মুক্তিপণের টাকা কেড়ে নিল তার জীবন। এতে নিভে গেল একটি পরিবারের প্রদীপ। ছেলের মৃত্যুতে শোকে কাতর মা-বাবা।

তানভীরের মৃত্যুর পর থেকে এখনো খাবার খাননি মা। আর সবার মুখের দিকে ফেল ফেল করে চেয়ে থাকেন বাবা। আদরের ছেলে তানভীরকেই খোঁজেন তিনি।

তানভীরের বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নছরতপুর গ্রামে। সে হাজী আফরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মুক্তিপণ না পাওয়ায় তানভীরকে হত্যা করে একই গ্রামের তিন যুবক।

নিহত তানভীরের বাবা ফারুক মিয়া একজন ব্যবসায়ী ও মা উজ্জ্বলা বেগম গৃহিণী। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন তিনি মৃতপ্রায়। পুরো এলাকার বাতাস যেন শোকে ভারী হয়ে গেছে। কান্না থামাতে পারছেন না তানভীরের সহপাঠীরাও।

২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা থেকে নিখোঁজ হয়েছিল তানভীর। ঘটনার দিন রাতেই তানভীরের নিজের মোবাইল থেকে বাবা ফারুক মিয়ার কাছে ফোন করে ৮০ লাখ টাকা চাওয়া হয়, না হলে ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

বিষয়টি পুলিশকে জানানে তানভীরের বাবা। পুলিশ মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে লোকেশন বের করে। লোকেশনে দেখা যায় চুনারুঘাট থেকে ফোন করা হয়েছে। পুলিশ সন্দেহজনকভাবে ওই রাতেই নুরপুর গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে জাহেদ ও নুরপুরের মালাই মিয়ার ছেলে শান্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পরে ঘটনার মূলহোতা উজ্জ্বলকে মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইদিনই দুপুরে তানভীরের লাশ একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তানভীরকে আগেই গলায় ফাঁস ও বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় খুনিরা। পরে স্থান পরিবর্তন করে টাকা চায় তানভীরের বাবার কাছে। সম্প্রতি তানভীরের বাবা বেশকিছু জায়গা বিক্রি করেছিলেন, তার বাবার ব্যাংকে টাকা আছে বিষয়টি একই গ্রামের ঘাতক উজ্জ্বল, শান্ত ও জাহেদ জানত। এ টাকাই কাল হয়ে নেমে আসল তানভীরের জীবনে।

এ মামলায় গ্রেফতার তিনজন এখন কারাগারে। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি অজয় চন্দ্র দেব বলেন, মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণকারীরা ছেলেটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পুকুরে ফেলে দেয়। আমরা আসামিদের গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর