বড় বোনকে না পেয়ে ছোট বোনকে ধর্ষণ

ঢাকা, শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২২ ১৪২৭,   ২১ রজব ১৪৪২

বড় বোনকে না পেয়ে ছোট বোনকে ধর্ষণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:০৮ ২৮ জানুয়ারি ২০২১  

জাকিম মিয়া

জাকিম মিয়া

চাচাতো বড় বোনকে বিয়ে করতে না পেরে ছোট বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাকিম মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত জাকিম মিয়া রুদ্রশ্রী গ্রামে সুরুজ আলীর ছেলে। ধর্ষণের শিকার শিশুটি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে জাকিম মিয়ার পরিবার। এ কারণে মেয়েটির পরিবার থানায় অভিযোগ করতে পারছে না।

ভুক্তভোগী শিশুটির স্বজনরা জানান, আগে থেকেই তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো জাকিম মিয়া। এ সুবাদে শিশুটির চাচাতো বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি হননি মেয়ের বাবা। প্রায় এক মাস আগে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেন শিশুটির চাচা। এরপর থেকেই তাদের দেখে নেবে বলে হুমকি দেয় জাকিম।

ঘটনার দিন রাতে বোরো জমিতে সেচ দিতে হাওরে যান ওই শিশুটির বাবা। খাওয়া-দাওয়া শেষে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে নিজ ঘরেই ঘুমিয়ে পড়ে শিশুটি। এরপর প্রতিবেশী জাকিমসহ আরো তিন-চারজন তাদের বসতঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ির সামনে পতিত জমিতে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের তাকে ধর্ষণ করে জাকিম। এতে অচেতন হয়ে পড়ে শিশুটি।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, জাকিম আমার বড় ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি এতে রাজি হইনি। এক মাস আগে আমার ভাতিজিকে অন্যত্রে বিয়ে দিয়েছি। এরপর থেকেই আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয় জাকিম। বৃহস্পতিবার রাতে জমিতে সেচ দিয়ে হাওর থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় বাড়ির সামনের জমিতে অচেতন অবস্থায় আমার মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখি। বাড়িতে আনার পর জ্ঞান ফিরলে সেখানে কীভাবে গেলে জানতে চাইলে ধর্ষণের ঘটনা বলে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার পর থেকে কাউকে কিছু না বলতে জাকিমের পরিবারের লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি এর বিচার চাই।

শিশুটির মা বলেন, আমার শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করেছে জাকিম। আইনের আশ্রয় নিলে আমাদের গ্রাম ছাড়া করবে বলেছে। আমরা গরিব মানুষ তাই ভয়ে চুপ করে রয়েছি।

জাকিমের মা তাজমহল বেগম বলেন, পাশের বাড়ির কতুব উদ্দিনের মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের প্রেম ছিল। আমরা বিয়ের জন্য তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে কথা দিয়ে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়েছে। আমার ছেলেকে ফাঁসাতে কতুব উদ্দিনের ভাইয়ের মেয়েকে ঘর থেকে অন্য কেউ নিয়ে এমন কাজ করেছে মনে হয়। ছেলে কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে গেছে।

মদন থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর