‘বাবারে, টাকা লাগবে না তুই ফিরে আয়’

ঢাকা, সোমবার   ০৮ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৩ ১৪২৭,   ২৩ রজব ১৪৪২

‘বাবারে, টাকা লাগবে না তুই ফিরে আয়’

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:০১ ২৮ জানুয়ারি ২০২১  

স্বজনদের আহাজারি

স্বজনদের আহাজারি

তিনদিন আগেও সৌদি আরবে থাকা ছেলে মেহেদি হাসান আকাশের সঙ্গে কথা হয়েছে শাহিনুর আক্তারের। আগামী সপ্তাহে মাকে টাকা পাঠানোর কথা ছিল। রমজান মাসে দেশে আসবেন, কার জন্য কি লাগবে মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তবে এর আগেই সব শেষ। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান আকাশ।

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন শাহিনুর আক্তার। আর বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, ‘বাবারে, টাকা লাগবে না, তুই দেশে ফিরা আয়। আমি তোর মুখটা দেখতে চাই।’

২৪ জানুয়ারি রাতে সৌদি আরবের তায়েফ শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আকাশ। তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নলুয়া গ্রামে। আকাশের মৃত্যুতে গ্রামে চলছে শোকের মাতম। দুর্ঘটনার দিন বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ছেলের সঙ্গে কথা হয় শাহিনুর আক্তারের।

একই দুর্ঘটনায় আকাশের মামা লিটন ও তার খালাতো ভাই ফয়সাল মোল্লাও মারা যান। বর্তমানে তাদের মরদেহ ওই দেশের হাসপাতালে রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আকাশের চাচাতো ভাই মাসুদ বলেন, লিটনের ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে সেলিম ফোন করে আজকে আমাদের মৃত্যুর সংবাদ জানায়। ঘটনাস্থলে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে কেউই এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে বলতে পারছে না কীভাবে মারা গেছে। কেউ বলছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে, কেউ বলছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে।

মাসুদ আরো বলেন, তারা তিনজন ওই দেশে ফ্রি ভিসায় কাজ করতেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়নি। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। তাদের মরদেহ আনার জন্য চেষ্টা করছি।

মতলবের ইউএনও ফাহমিদা হক বলেন, সৌদি আরবে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কেউ জানাতে পারেনি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দেশে আনতে আমার সহযোগিতা থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর