নবজাতক কোলে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে বসেই পরীক্ষা দিলেন মা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২০ ১৪২৭,   ১৯ রজব ১৪৪২

নবজাতক কোলে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে বসেই পরীক্ষা দিলেন মা

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:৫৩ ২৭ জানুয়ারি ২০২১  

অ্যাম্বুলেন্সে বসে পরীক্ষা দিলেন মা

অ্যাম্বুলেন্সে বসে পরীক্ষা দিলেন মা

মাত্র দুইদিন আগে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, সেই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে উদ্যোমী এক মা নিজেই উপস্থিত হলেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। সবাইকে জানিয়ে দিলেন, নারী সব পারে! তবে শ্রেণিকক্ষে নয়, অ্যাম্বুলেন্সে বসে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। ওই অ্যাম্বুলেন্সে সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তান এবং তার নানি উপস্থিত ছিলেন। 

নানির কোলে নাতনি, মায়ের হাতে কলম- এমন এক অদম্য নারীর ইচ্ছাশক্তির গল্প এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারবাসীর মুখে মুখে।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী ওই মা। উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগামে তার বাবার বাড়ি, বিয়ে হয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। স্বামী প্রবাসে থাকলেও স্ত্রীর শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতার বিপরীতমুখী হননি তিনি। গর্ভে সন্তান নিয়ে তিনি চূড়ান্ত বর্ষের অপর একটি বিষয়ে পরীক্ষা দেন।

গত শুক্রবার স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি সন্তান প্রসব করেন। রোববার তার ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরীক্ষা ছিল। একদিকে সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তান অপরদিকে জীবনের লক্ষ্য স্থির করার মুহূর্ত। কোনটা বেছে নেবেন এই মা। এমন প্রশ্নের যখন উত্তর খুঁজছেন সবাই তখন ওই মা’ই সিদ্ধান্ত দিলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, সন্তান সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষা দেবেন।

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্রীর পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে পরীক্ষার আগের রাতে যোগাযোগ করা হয়। সে মোতাবেক আমরা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করি। সদ্য সন্তান জন্ম দেয়া মার দোতলায় পরীক্ষার হলে যাওয়া কঠিন, তাই আমরা অ্যাম্বুলেন্সে রেখেই তার পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তিনি বলেন, যথাসময়ে ওই ছাত্রী পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হলে আমরা অ্যাম্বুলেন্সে একজন শিক্ষক (মহিলা পরিদর্শক) নিয়োগ করি। প্রশ্নপত্র প্রাপ্তিসাপেক্ষে ওই ছাত্রী পুরো চার ঘণ্টা সময় ব্যয় করে পরীক্ষা দেন। আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই।

মা হওয়া ওই ছাত্রী জানান, হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে সরাসরি পরীক্ষাকেন্দ্রে যাই। পরীক্ষা শেষে আবার হাসপাতালে ফিরে আসি। এই সময়ের মধ্যে আমার সন্তান একাধিকবার কেঁদে উঠলেও আমি তাকে নিয়ন্ত্রণ করি। এতে আমার কোনো অসুবিধা হয়নি। আমি চাই পড়ালেখা শেষ করে সরকারি চাকরি করতে। তাই কোনো বাধাই মেনে নিইনি। তিনি বলেন, সবকিছুতে আমার স্বামীর সম্মতি ছিল। আসলে পরিবারের সমর্থন ছাড়া কিছুই করা যায় না।

সোমবার রাত থেকে ওই মায়ের পরীক্ষা দেয়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে নারীদের শৃঙ্খল ভাঙার মানসিকতাকে বাহবা দিচ্ছেন সব শ্রেণিপেশার মানুষ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম