পা নেই তবুও হুইলচেয়ারে খাবার ডেলিভারি দিচ্ছেন জাহিদুল

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২১ ১৪২৭,   ২০ রজব ১৪৪২

পা নেই তবুও হুইলচেয়ারে খাবার ডেলিভারি দিচ্ছেন জাহিদুল

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৫ ২৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২১:১৫ ২৬ জানুয়ারি ২০২১

জীবনযুদ্ধের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জাহিদুল ইসলাম পলাশ ছবি: সংগৃহীত

জীবনযুদ্ধের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জাহিদুল ইসলাম পলাশ ছবি: সংগৃহীত

এক পা নেই, অপরটি অচল। তবুও জীবনযুদ্ধের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জাহিদুল ইসলাম পলাশ। হুইলচেয়ারে করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন একটি অনলাইন খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খাবার।

রাজশাহী নগরীর কাজলার ধরমপুর পশ্চিম পাড়ার রিকশাচালক বাবা নাজির আলি ও মা জানেহার বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে পলাশ দ্বিতীয়। ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর একটি দুর্ঘটনা জীবনের মোড় বদলে দেয় পলাশের। নগরীর কাজলায় বৈদ্যুতিক তার খসে পড়ে তার গায়ের ওপর। বাম পায়ের হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। হাঁটুর নিচে থেকে এটি অপসারণ করা হয়।

আর ডান পায়ের তিনটা আঙ্গুল ও রগ নেই। ফলে শরীরের সঙ্গে থাকলেও এটি কাজ করে না। প্লাস্টিক সার্জারি রয়েছে ঘাড়ের ওপরেও। এরপর থেকেই শুরু হয় পলাশের হুইলচেয়ারের জীবন।

পলাশ জানান, সপ্তাহ দুয়েক হলো ফুডপান্ডার রাইডার হিসেবে কাজ করছেন। ফাঁকা সময়ে তিনি খাবার সরবরাহের কাজ করেন। ডেলিভারি প্রতি ২২-৩২ টাকা পর্যন্ত পান পলাশ। নিজের শারীরিক অক্ষমতার কারণে সবসময় শিফট ধরতে পারেন না। তখন অন্য কারো শিফটে কাজ করেন। গত দুই সপ্তাহে তার আয় এক হাজার ৪০০ টাকা।

নগরীর দেওয়ানপাড়াস্থ মেট্রোপলিটন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। ভালো একটা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে লেখাপড়া করতে চান পলাশ। সেজন্য জমাচ্ছেন টাকা।

পলাশ বলেন, বাবার রিকশা চালানোর আয় দিয়ে কষ্টে সংসার চলে। ছোট ভাই নুরুজ্জামান প্রান্ত এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। দুজনের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা। এর মাঝে ছোট ভাইটাও বসে থাকে না। নিজের পকেট খরচের জন্য মাঝে মাঝে কাজে লেগে পড়ে। তাই আর বসে থাকতে পারলাম না। নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতে এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথে আর্থিক অসঙ্গতি যেন বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে তাই ফুডপান্ডায় কাজ শুরু করলাম। অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হতে চাই। যেন কারো কাছে হাত পাততে না হয়।

তিনি জানান, প্রতিবন্ধীদেরকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে চান। এজন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন আশার আলো প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন। এরইমধ্যে সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন ৬০ জন প্রতিবন্ধী।

পলাশের রয়েছে অসাধারণ ক্রীড়া দক্ষতা। বাংলাদেশ হুইলচেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত খেলোয়াড় তিনি। ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ২০১৯ সালে জাতীয় ডার্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। প্রাণশক্তিতে ভরপুর পলাশ বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

পলাশ বলেন, প্রতিবন্ধী হলেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি। একজন প্রতিবন্ধী মানুষ কৃষিকাজ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের নেতৃত্বের জায়গাতেও অবদান রাখতে পারেন বলে বিশ্বাস করি। তাই নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে সৃষ্টিকর্তার ভরসায় এগিয়ে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে