গ্রাম্য মাতবরের নির্দেশে সমাজচ্যুত তিন পরিবার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭,   ২৪ রজব ১৪৪২

গ্রাম্য মাতবরের নির্দেশে সমাজচ্যুত তিন পরিবার

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৭ ২৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:২১ ২৫ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজার কুলাউড়া উপজেলায় গ্রাম্য মাতবরের নির্দেশ অমান্য করায় তিন পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।  

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমুল ইউপির কুরবানপুর গ্রামের কাজল আহমদ ও জুবেল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কাজল আহমদের মাত্র দুই শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল তারই কাছের আত্মীয় পাখি মিয়ার সঙ্গে। এ নিয়ে গ্রামের মাতবর নজরুল ইসলামের কাছে সালিশ চাওয়া হয়। এতে উভয়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা জামানত নিয়ে সালিশ বৈঠক করেন নজরুল ইসলাম। সালিশ বৈঠকে দুই শতাংশ জমির মালিকানা পাখি মিয়াকে ভোগ দখলের নির্দেশ দেন। এতে কাজল আহমদ তার এক শতাংশ জমির মালিকানার কাগজ দেখিয়ে তা দিতে আপত্তি জানান। এক পর্যায়ে কাজল আহমদ আইনের সহায়তা পেতে গত বছর ৩ ডিসেম্বর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। 

এ মামলা দায়ের করায় গ্রামের মাতবর নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী চেরাগ মিয়া, চুনু মিয়া, হান্নান মিয়া ও কাদির মিয়াসহ অন্যরা বৈঠক করে তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে তাদের সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে। মাতবর ও তার লোকজনরা গ্রামের কোনো ব্যক্তি যাতে তাদের সঙ্গে উঠবস, চলাফেরা ও কথাবার্তা বলতে না পারে এরকম আদেশ জারি করেছেন। 

এ পরিবারের লোকজন গ্রামের স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে গেলেও মাতবরের লোকজন তাদের বাধা দিচ্ছে। এছাড়া এ পরিবারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতে কোনো লোকজন না যায় এতেও বাধা বিপত্তি দেয়া হয়েছে। 

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জুবেল আহমদ অভিযোগ করেন, দু’বছর আগে তাকে ও তার পরিবারকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সমাজচ্যুত করা হয়। একইভাবে কুরবানপুর গ্রামের মায়া বেগম নামে এক নারী অভিযোগ মাতবর ও তার সহযোগীদের সালিশ বৈঠকের নির্দেশ অমান্য করায় তাকেও সমাজচ্যুত করা হয়। মাতবর ও তার সহযোগীদের নির্দেশ অমান্য করলেই গ্রামে তাদের সমাজচ্যুত করা হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে মাতবর নজরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তিনি পরবর্তীতে বিষয়টি জানাবেন বলে ফোন রেখে দেন। 

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ বিষয়টি তার অবগত জানিয়ে বলেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে