কারাগারে পাঁচ বছর ধরে হলমার্কের তুষারকে একান্তে সঙ্গ দিয়েছেন সুইট

ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৩ রজব ১৪৪২

কারাগারে পাঁচ বছর ধরে হলমার্কের তুষারকে একান্তে সঙ্গ দিয়েছেন সুইটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৭ ২৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:২৭ ২৫ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমদকে গত পাঁচ বছর ধরে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করে সঙ্গ দিয়েছেন আসমা শেখ সুইটি নামের ওই নারী। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর সবুজবাগের নিজ বাসায় মা এবং ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন সুইটি। তার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। সুইটির বাবা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মুঠোফোনে তুষারের সঙ্গে পরিচয় সুইটির। পরবর্তীতে তারা গোপনে বিয়ে করেন।

এদিকে কারাবন্দি তুষারের প্রথম পক্ষের স্ত্রী এবং দুই সন্তান রয়েছে। ২০১২ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর তুষার আহমেদ কারাগারে থাকায় তার প্রথম স্ত্রী নাজনিন সুলতানা মিষ্টি দুই সন্তানকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান। প্রথম স্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যরা তুষারের সঙ্গে সুইটির বিয়ের বিষয়টি জানেন না। 

সূত্র জানায়, কারাগারের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সহযোগিতা নিয়ে কারাগারেই তারা একান্তে বহুবার মিলিত হওয়ার সুযোগ পেতেন। বিনিময়ে আর্থিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি মিলতো বড় অঙ্কের উপঢৌকন।
 
সূত্র জানায়, এর আগে সুইটি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। হাতিরঝিল সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে তার একটি ফ্যাশন হাউজ। ২০১৯ সালে এই ফ্যাশন হাউসটি চালু করেন। বর্তমানে সেখানে তিনজন কর্মী কাজ করেন। 
 
সূ্ত্রে আরো জানা যায়, কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির কাছে সুইটিকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন তুষার। তুষারের দাবি, বিয়ের আগে সুইটির সঙ্গে কারাগার থেকে মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলতেন দুজনে। ফোনেই সুইটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তুষারের। পরবর্তীতে মুঠোফোনে তাদের বিয়ে হয়। তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হতে একাধিক কারাবন্দির সাক্ষাৎকার নিয়েছে তদন্ত কমিটি।

সূত্র জানায়, তুষারের সঙ্গে আগে নিয়মিত কাশিমপুর কারাগারে সাক্ষাতে যেতেন সুইটি। করোনার কারণে সম্প্রতি তুলনামূলকভাবে কম যেতেন।

সূত্র আরো জানায়, এই ঘটনার পর সুইটি মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। ভিডিও ফুটেজ ও টেলিভিশনে যখন দেখাচ্ছিল তখন তিনি কাছের মানুষদের সঙ্গে ফোনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

এদিকে গাজীপুরের কাশিমপুরে গত ৬ জানুয়ারি কারাগারে প্রবেশপথে কর্মকর্তাদের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের জামা পরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত  হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষারকে। কিছু সময় পর বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরে সেখানে প্রবেশ করেন সুইটি। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সে কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কারা কর্মকর্তাদের সবাই কারাগারেই অবস্থান করছিলেন।

কারা সূত্র জানায়, মহিলাসহ তিনজন কারাগারের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন ৬ জানুয়ারি ১টা ৫৬ মিনিটে। কারা সেল থেকে হলমার্ক কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা তুষার কারা অফিস কক্ষে আসেন ২টা ৪ মিনিটে।

এরপর জেল সুপার রত্না রায় অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে যান ২টা ১৫ মিনিটে। কারা অফিসের একটি কক্ষে টানা ৪৫ মিনিট অবস্থান করেন তুষার ও সুইটি। এ ঘটনায় এরই মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ এর তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর