মা-বাবা হারা ১০ বছরের শিশুকে নিরুদ্দেশ যাত্রায় ট্রেনে তুলে দিলো ভাই-ভাবি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭,   ১২ রজব ১৪৪২

মা-বাবা হারা ১০ বছরের শিশুকে নিরুদ্দেশ যাত্রায় ট্রেনে তুলে দিলো ভাই-ভাবি

রাণীনগর (নওগা) ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:০১ ২৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২০:৩৬ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মা-বাবা হারা ১০ বছরের শিশু রফিকুল ইসলাম

মা-বাবা হারা ১০ বছরের শিশু রফিকুল ইসলাম

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর এতিম হয়ে যায় শিশু রফিকুল। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর দায়িত্ব না নিয়ে ১০ বছরের শিশুকে অজানার উদ্দেশ্যে ট্রেনে তুলে দিলো তার আপন ভাই ও ভাবি। এ সময় তারা বলে, আমরা তোকে আর দেখাশোনা করবো না। তোর কপাল যেখানে আছে চলে যা। বেঁচে থাকলে হয়তো দেখা হবে।

রোববার দুপুরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির ইউএনওর কাছে কথাগুলো বলে- নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাদেশ মণ্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম।

শিশু রফিকুল জানায়, তার বয়স ১০ বছর। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। এক বছর আগে তার বাবা-মা মারা যায়। তাদের মৃত্যুর পর সে ভাই-ভাবির কাছে থাকতো। ভাই নওগাঁ শহরে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। শনিবার তাকে রাখতে পারবে না বলে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেয় ভাই-ভাবি।

স্থানীয় সোনার বাংলা সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সংসদের আহ্বায়ক হেলাল খন্দকার বলেন, শনিবার রাতে তাকে বালিয়াকান্দির বহরপুর রেল স্টেশনে পাওয়া যায়। প্রথমে সে কাঁদছিল। তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে শিশুটির পরিচয় জানা যায়।

বালিয়াকান্দির ইউএনও আম্বিয়া সুলতানা বলেন, শনিবার রাতে বহরপর স্টেশনে একজন সমাজকর্মী একটি শিশুকে পেয়েছেন। নওগাঁর সংশ্লিষ্ট ইউএনওর সঙ্গে কথা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে ওই সমাজকর্মীর বাড়িতে আছে। তাকে তার ভাই-ভাবি বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

শিশু রফিকুল ইসলামের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই উদাসীন টাইপের ছেলে। তাকে এক দোকানে কাজে লাগিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু সে কাজ না করে ঘুরে বেড়াত। আমাদের অভাবের সংসার আমরা নিজেরাই চলতে পারি না। আমরা তার দায়িত্ব নিতে পারবো না বলেই ট্রেনে তুলে দিয়েছি।

রাণীনগরের ইউএনও আল মামুন জানান, শিশুটিকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে সে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সমাজকর্মী হেলাল খন্দকারের কাছে আছে। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা দায়িত্ব নিতে না চাইলে আমরা শিশুটির সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/জেডএম