রঙিন কুলে স্বপ্ন সফল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১২ ১৪২৭,   ১২ রজব ১৪৪২

রঙিন কুলে স্বপ্ন সফল

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫২ ২৪ জানুয়ারি ২০২১  

কুল বাগান

কুল বাগান

চার ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে কুল বা বরই। পাকা কুলগুলো দেখতে ঠিক লাল আপেলের মতো। স্বাদেও বেশ মিষ্টি। আর এমন স্বাদের কুল চাষ করে তাক লাগিয়েছেন শ্রবণ প্রতিবন্ধী হোসেন সরদার। এ কুল বাগানে সফল হয়েছে তার রঙিন স্বপ্ন।

কুল বাগানে দূর থেকে তাকালে মনে হবে লাল আর সবুজের মেলা বসেছে। যেকোনো কেউ প্রথমে আঁচ করতে পারবেন না- লালগুলো ফল, নাকি গাঢ় সবুজগুলো। পাশে গিয়ে বোঝা যায়, লাল কুলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। মাটি থেকে গাছের ডগা আর ডগা থেকে মাটি পর্যন্ত কুল আর কুল।

শ্রবণ প্রতিবন্ধী হোসেন সরদারের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘনা ইউনিয়নের আরশনগর গ্রামে। বছর দুয়েক ধরে তিনি কাশ্মিরী কুল চাষ করছেন। এবার বেশ ভালোই ফলন হয়েছে। এতে হোসেন সরদার মহাখুশি। আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে কুল চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন। তার কুল বাগানে কাজ করছেন আরো ১২ জন।

কাশ্মিরী কুল ছাড়াও হোসেন সরদার আরো দুই জাতের কুল চাষ করেছেন। এসব কুল খেতেও সুস্বাদু। বাজারে এর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। হোসেন সরদারের এ সাফল্যে এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

হোসেন সরদার বলেন, পাইকগাছা গদাইপুর গ্রাম থেকে প্রথমে কুল গাছ সংগ্রহ করি। এরপর তিন বিঘা জমিতে সেই গাছ রোপণ করি। এর মধ্যে রয়েছে আপেল কুল, কাশ্মিরী কুল ও সাতক্ষীরার নারিকেল কুল। এসব কুলের আকর্ষণীয় রঙ হওয়ায় বাজারে দিনদিন কদর বাড়ছে।

তিনি বলেন, পাইকাররা বাগান থেকে কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা দরে কুল কিনে নিচ্ছেন। বাগানে মাত্র ৯০টি কুল গাছ রয়েছে। এসব গাছের বয়স দুই বছর হয়ে গেল। প্রতিটি গাছে তিন থেকে চার মণ করে কুল ধরেছে। এ বছর বেশি ফলন আশা করিনি। জমিতে কুল চাষ করতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত দুই লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছি। আরো ছয়-সাত লাখ টাকার কুল বিক্রি করতে পারব।

স্থানীয়রা জানায়, হোসেন সরদার কৃষি কাজে লেগে থাকেন। তিনি গাছ নিয়ে গবেষণাও করেন। হোসেন সরদার একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী হলেও কারো কাছে হাত পাতেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন জানান, হোসেন সরদার সহজ ও সরল প্রকৃতির একজন চাষি। কৃষি কাজ করেই তিনি স্বাবলম্বী। এমন একজন চাষি আমাদের জন্যেও অনুকরণীয়।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, হোসেন সরদার একজন ভালো চাষি। কুল চাষে তিনি নিজের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এতে তার ফলনও ভালো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর