তিস্তার চরাঞ্চলে মরিচ চাষে খুশি কৃষকরা

ঢাকা, বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭,   ১৮ রজব ১৪৪২

তিস্তার চরাঞ্চলে মরিচ চাষে খুশি কৃষকরা

ফজলুর রহমান, পীরগাছা (রংপুর) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ২৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:৫১ ২৪ জানুয়ারি ২০২১

চলতি মৌসুমে মরিচের ভালো ফলন হয়েছে।

চলতি মৌসুমে মরিচের ভালো ফলন হয়েছে।

তিস্তার চরে ফিরেছে চাষাবাদ। হাসি ফুটেছে নদী ভাঙনের শিকার ক্ষতিগ্রস্তদের মুখে। এসব পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকে পড়েছে চাষাবাদে। নদীতে বিলীন হওয়া জমির ফসল ঘরে তুলেতে পেরে খুশি এখন অনেকেই।

তাই নানান ফসলে ভরে উঠেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নে তিস্তার বুকে জেগে উঠা প্রায় ২০টি বালুচর। চলতি মৌসুমে মরিচের ভালো ফলন হয়েছে। মরিচসহ নানা ফসলে ভরে উঠেছে তিস্তার চরাঞ্চল।

উপজেলার দুটি ইউনিয়নে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা নদী। প্রতি বছরই নদী ভাঙনের শিকার হয় তিস্তা নদী কবলিত এলাকার পরিবারগুলো। তবু তারা জীবন জীবিকার তাগিদে তিস্তায় জেগে উঠা চরে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলিয়ে আশার আলো জাগায়।

ছাওলা ইউনিয়নের চর ছাওলা, কিশামত ছাওলা, গাবুড়ার চর, শিবদেব চর, চর ছাওলা কামারের হাট ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের রহমতচর, নামাচর, চর রহমতসহ প্রায় ২০টি জেগে উঠা তিস্তা নদীর চর এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের হাজারো একর জমিতে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে নানা প্রজাতির ফসল। বিশেষ করে মরিচ, গম, ভুট্টা, আলু, বেগুন, পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাদাম, সরিষা, তিল, তিশি, তামাক, কুমড়া ও তরমুজসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে (২৩ জানুয়ারি) শনিবার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত ছাওলা গ্রামের বেল্লাল এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এবারে নিজে ১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমি থেকে ১৫ হতে ২০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি হয়। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে মরিচ তোলা যায়। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় চরের কৃষকরা এখন মরিচসহ নানাবিধ তরিতরকারি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি আরো বলেন, মরিচের দামও এখন ভালো। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাওটানা হাটের ব্যবসায়ী আশরাফ আলী জানান, স্থানীয় মরিচের চাহিদা অনেক বেশি। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে মরিচ কিনে বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়। চরাঞ্চলের জমিতে তরিতরকারির আবাদ এখন ভালো হয়। সে কারণে চরের মানুষ অনেক খুশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ১শ' ২০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। পলি জমে থাকায় কারণে চরের জমি অনেক উর্বর, এ কারণে যেকোনো প্রকার ফসলের ফলন ভালো হয়। তিনি বলেন, চরের কৃষকরা নিজে পরিজন নিয়ে জমিতে কাজ করেন। সেই কারণে তারা অনেক লাভবান হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/এইচএন