মুজিববর্ষে স্বপ্নের ঠিকানায় আখাউড়ার ৪৫ গৃহহীন পরিবার 

ঢাকা, শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২১ ১৪২৭,   ২১ রজব ১৪৪২

মুজিববর্ষে স্বপ্নের ঠিকানায় আখাউড়ার ৪৫ গৃহহীন পরিবার 

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৮ ২৩ জানুয়ারি ২০২১  

উপকারভোগীদের হাতে বাড়ির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হচ্ছে

উপকারভোগীদের হাতে বাড়ির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হচ্ছে

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া  উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৪৫টি পরিবারের হাতে বাড়ির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর ওইসব উপকারভোগীদের হাতে বাড়ির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হয়। 

এ উপলক্ষে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ  ভূমিহীন পরিবারের লোকজন অংশ নেন।  

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ, ডিসি হায়ত উদ-দৌলা খাঁন, এসপি মোহাম্মদ আনিসুল রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান মো, আবুল কাশেম ভূইয়া, ইউএনও মোহাম্মদ নুরে-এ আলম, পৌরসভা মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল ও থানার ওসি মো. রসুল আহমদ নিজামী প্রমুখ। 

স্বপ্নের ঘর পেয়ে উপকারভোগীরা খুবই খুশি হন। তাদের ঘরে ঘরে চলছে ঈদ আনন্দ। তারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।  

উপজেলার বনগজ গ্রামের মো. কাদির হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, আমরা নিতান্তই অসহায় ভূমিহীন গরিব মানুষ। সামান্য আয়ের সংসার। ভাঙাচুরা ঘরে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম দিনানিপাত করছি। শীতের সময় ঘর ভাঙা থাকায় রাতে খুবই শীত করে। তাছাড়া বৃষ্টির সময় সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ছিদ্র দিয়ে ঘরে বৃষ্টি পড়ায় খুবই কষ্ট করতে হয়। আমরা কী কখননো আয় রোজগার করে বাড়িঘর করতে পারতাম। তাছাড়া কোনোদিন স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটা পাকা ঘর দেবেন।

ইউএনও মোহাম্মদ নুরে-এ আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চর নারায়ণপুর মৌজায় সরকারি খাস জমিতে ৪৫টি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য থাকছে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এসব ঘর।  চৌচালা বিশিষ্ট  রঙিন টিনের ঘর, প্লেন শিটের জানালা, ও দরজা, ইটের দেয়াল ও পাকা মেঝে রয়েছে। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি আধাপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সবগুলো বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায় করা হচ্ছে। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট, টিউবওয়েল, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে এসব বাড়িতে। 

ইউএনও’র সার্বিক তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম ভূইয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, মোগড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা দফায় দফায় গৃহ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনসহ নিয়মিত খোঁজ খবর  রাখেন। 

ইউএনও মোহাম্মদ নুরে-এ আলম  বলেন, এ উপজেলার মোট ৬৫১টি ভূমিহীনদের তালিকা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫টি পরিবারের মাঝে ভূমি ও ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা শনিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপকারভোগী ওইসব পরিবারের কাছে গৃহ হস্তান্তরের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে বাড়ির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে বাকিঘরগুলো নির্মাণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ