খদ্দেরের কল পেয়ে যৌনপল্লীতে পুলিশ, উদ্ধার হলো ১৪ কিশোরী

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

খদ্দেরের কল পেয়ে যৌনপল্লীতে পুলিশ, উদ্ধার হলো ১৪ কিশোরী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৫ ২০ জানুয়ারি ২০২১  

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে ১৪ কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাজবাড়ী পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান।

তিনি জানান, মঙ্গলবার যৌনপল্লী থেকে ৯৯৯ নম্বরে কল দেয় এক খদ্দের। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীরসহ পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। ওই সময় যৌনপল্লীর নাজমা বেগমের বাড়ি থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যে একই বাড়ির একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আরো ১১ কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরো জানান, ওই কিশোরীরা বিভিন্ন সময় পাচারচক্রের মাধ্যমে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে গিয়েছে। সেখানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছিল। তাদের আদালতের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারো নাম-পরিচয় শনাক্ত না হলে তাদের সেফ হোমে পাঠানো হবে।

উদ্ধার হওয়া একাধিক কিশোরী বলেন, ভালো চাকরির প্রলোভনে আমাদের যৌনপল্লীতে বিক্রি করা হয়। ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না। কিছু বললে বাড়িওয়ালী নাজমাসহ তার সহযোগীরা অমানবিক নির্যাতন চালাতো। এখন আমরা বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে চাই।

তারা আরো বলেন, আমাদের দিয়ে জোর করে দেহব্যবসা করানো হতো। খদ্দের যে টাকা দিত, তা বাড়িওয়ালী নিয়ে যেত। বকশিশের টাকা দিয়ে আমরা জামা-কাপড় কিনতাম। বাড়িওয়ালীসহ অন্যরা ভালো খাবার খেলেও আমাদের দেয়া হতো পচা-বাসি খাবার।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন, ডিআইও-১ সাইদুর রহমান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর, সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার, ডিআইও-২ প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর