হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

ঢাকা, শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৪ রজব ১৪৪২

হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

রামিম হাসান, ঝিনাইদহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৭ ২০ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:০১ ২০ জানুয়ারি ২০২১

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নদী-নালা, খাল-বিল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। দিনদিন চাহিদা বাড়লেও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ছে এসব মাছ। উৎপাদন কমে আসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বংশ পরম্পরায় দেশীয় মাছ শিকারীরা। বাধ্য হয়ে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন।

মহেশপুরের উল্লেখযোগ্য মাছ হলো- চিতল, টাকি, খলিসা, বাইলা, পাবদা, পুঁটি, শোল, দারকিনা, শিং, মাগুর, চান্দা, ভেদা, কৈ, টেংরা, বাইন, মলা ইত্যাদি।

জানা গেছে, এক সময় এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১শ’ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ পাওয়া যেত। সুস্বাদু হওয়ায় এসব মাছের চাহিদা ছিল ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। দিনদিন নদী-খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়া, পুকুর-নালা ভরাট হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে অধিকাংশ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

মহেশপুরের বিভিন্ন বাজারে দেশি মাছের ব্যাপক চাহিদা, নেই যোগান

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। কল-কারকাখানার বর্জ্য নদী-নালায় গিয়ে পানি নষ্ট করার কারণে দেশীয় মাছের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া জলাশয় ভরাট, অবাধে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধন, অভায়াশ্রম না থাকা, বিদেশি মাছের আধিক্যের কারণে এসব দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দেশীয় মাছের দাম বেশি। তুলনামূলক কম দামে বিদেশি মাছ পাওয়া যায়। এ কারণে ক্রেতারা বিদেশি মাছই কেনেন। কীটনাশক ব্যবহার না করা, কারখানার বর্জ্য নদী-নালায় না ফেলা, পোনা নিধন না করা, অভয়াশ্রম তৈরি করা সম্ভব হলে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন আবারো বাড়বে।

বিপন্ন প্রজাতির এসব দেশীয় মাছ কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কাজ করছে। এরই মধ্যে ৬টি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সাফল্য লাভ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর