ভাতিজিকে বেঁধে ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত জখম, চাচা গ্রেফতার

ঢাকা, শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৪ রজব ১৪৪২

ভাতিজিকে বেঁধে ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত জখম, চাচা গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৪ ২০ জানুয়ারি ২০২১  

গ্রেফতারকৃত চাচা আলী মিয়া

গ্রেফতারকৃত চাচা আলী মিয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শান্তা আক্তার নামে তিন সন্তানের মাকে হাত-পা বেঁধে মারধর শেষে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত জখম করার দায়ে চাচা আলী মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. আবদুর রহিম বলেন, গত রোববার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রাম শান্তা আক্তার নামে তিন সন্তানের মাকে হাত-পা বেঁধে মারধর শেষে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।

এ ঘটনায় শান্তার মা রৌশনা আক্তার বাদী হয়ে তারই তিন চাচা হুমায়ূন মিয়া, আলী মিয়া ও রতন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পরে রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রাম থেকে শান্তার চাচা আলী মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আলী মিয়াকে বুধবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আহত শান্তা আক্তার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রামের আলগাবাড়ির আইয়ুব মিয়ার মেয়ে ও একই গ্রামের পাশাপাশি বাড়ির রাজমিস্ত্রী রাসেল মিয়ার স্ত্রী। সে দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জননী। কয়েক দিন আগে শান্তার ছেলের সঙ্গে চাচা হুমায়ূন মিয়ার ছেলের ঝগড়া হয়েছিল। এ নিয়ে হুমায়ূন মিয়া শান্তাকে গালাগাল করে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় শান্তা আক্তার ডাক্তার দেখাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আসার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে চাচা হুমায়ূন মিয়া তার  কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে শান্তাকে আটক করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে শান্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় শান্তার চিৎকারে তা মা রওশন আরাসহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হুমায়ূন মিয়া ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত শান্তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

হাসপাতালে শান্তার মা রোশনা আক্তার বলেন, রোববার সন্ধ্যায় প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে শান্তা ডাক্তার দেখাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার সময় হুমায়ূন মিয়া তার কয়েকজন মুখোশপড়া সহযোগী নিয়ে শান্তার হাত-পা বেঁধে একপর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শান্তা আক্তার বলেন, হুমায়ূন মিয়া তাকে গত কয়েকদিন ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। রোববার রাতে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধোর শেষে ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ