অন্ধ স্বামীকে হত্যা: স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড, শ্বশুর-শাশুড়ির যাবজ্জীবন

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

অন্ধ স্বামীকে হত্যা: স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড, শ্বশুর-শাশুড়ির যাবজ্জীবন

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০১ ১৯ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২১:০৫ ১৯ জানুয়ারি ২০২১

জেলা ও দায়রা জজ আদালত

জেলা ও দায়রা জজ আদালত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গরম তেল ঢেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামী শহিদ উল্যাকে হত্যায় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে শ্বশুর আবুল হোসেন ও শাশুড়ি লিলি বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিতরা সবাই বেগমগঞ্জ উপজেলার মধ্য নরোত্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা। রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আবুল হোসেন। তবে মামলার প্রধান আসামি বিবি কুলসুম ও শাশুড়ি লিলি বেগম পলাতক রয়েছেন।

আদালতের পিপি গুলজার আহমেদ জুয়েল জানান, ১৩ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে যান শহিদ উল্যা। সবকিছু জেনে শহিদকে বিয়ে করেন বিবি কুলসুম। শহিদের বাবা-মা ঢাকায় থাকতেন। তাদের ঢাকায় পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে। শহিদ উল্যার ভাইয়েরা বিদেশে থাকতেন। বিদেশ থেকে প্রায় সময় তার জন্য টাকা পাঠাতেন। এসব টাকা ও ঢাকার ফ্ল্যাটবাড়ি আত্মসাতের জন্যই শহিদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন কুলসুম ও তার মা-বাবা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩ মে সকালে শহিদ উল্যাকে নাস্তা করার কথা বলে ঘরে ডাকেন স্ত্রী কুলসুম। এরপর তার গায়ে গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যান। এর আগে কৌশলে বাড়ির সব মূল্যবান আসবাবপত্র ও সন্তানদের বাবার বাড়িতে রেখে আসেন তিনি। পরে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন শহিদকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান চিকিৎসকরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ মে মারা যান শহিদ উল্যা।

এ ঘটনায় বিবি কুলসুম, শ্বশুর আবুল হোসেন ও শাশুড়ি লিলি বেগমের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন শহিদের বোনজামাই সাহেব উল্যাহ। দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার এ রায় দেয় আদালত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর