নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসা ৬ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইমাম

ঢাকা, শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৪ রজব ১৪৪২

নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসা ৬ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইমাম

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৫ ১৮ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৮:৩২ ১৮ জানুয়ারি ২০২১

হোসাইন আহমেদ

হোসাইন আহমেদ

একটি মসজিদে ইমামতি করেন তিনি। আর মসজিদ থেকে যে বেতন পান তা দিয়েই চলে সংসার। তবে তার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ অ্যাকাউন্টেই জমা হয় প্রায় ছয় লাখ টাকা। কিন্তু টাকাগুলো নিজের না হওয়ায় ফেরত দিলেন তিনি। নেত্রকোনার খালিয়াজুরী শাখা কৃষি ব্যাংকে টাকাগুলো ফেরত দেয়া হয়।

এত টাকা ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হোসাইন আহমেদ। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শ্যামারচর বাজার জামে মসজিদে ইমামতি করেন। তার বাড়ি একই জেলার শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামে।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী শাখা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক তাপস মঞ্জুসা দেব রায় জানান, ব্যাংকে হোসাইন আহমেদের নামে সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০১৮ সালে সর্বশেষ টাকা তোলা হয়েছিল। রোববার ব্যাংকে টাকা তুলতে এসে অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে জানতে চান হোসাইন আহমেদ।

এ সময় কর্মকর্তা অ্যাকাউন্ট দেখে জানান, অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ ৯১ হাজার ২৬৮ টাকা রয়েছে। কিন্তু অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা থাকার কথা বলে জানান হোসাইন আহমেদ। এত টাকা তার নয়। পরে ব্যাংকের কর্মকর্তারা ভালো করে চেক করে দেখেন অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ ৯১ হাজার ২৬৮ টাকাই রয়েছে। এ অবস্থায় হোসাইন আহমেদ নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি নিতে অস্বীকার করেন। পরে অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৬৮ টাকা তুলে ব্যাংকে ফেরত দেন তিনি।

কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক তাপস মঞ্জুসা বলেন, ব্যাংকে ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট করার সময় বা সংখ্যায় ভুল করে হয়তো টাকাগুলো এ অ্যাকাউন্টে চলে এসেছে। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে সঠিক মালিক না পেয়ে ব্যাংক নিয়মানুযায়ী ওই টাকা অতিরিক্ত অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে।

হোসাইন আহমেদ বলেন, আমার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা আছে, বাকি টাকা আমার না। ভুল করে আসা ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৬৮ টাকা ব্যাংকে ফেরত দিয়েছি। টাকার সঠিক মালিক খুঁজে তার অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বলেছি। যেহেতু টাকা আমার না তাই এ টাকার প্রতি আমার হক নেই। এ কারণেই সুযোগ হলেও টাকাগুলো নেইনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর