‘এমপি পার হবেন’ বলে বন্ধ সেতু, অটোরিকশায় বসে কাতরাল দগ্ধ শিশু 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭,   ১৯ রজব ১৪৪২

‘এমপি পার হবেন’ বলে বন্ধ সেতু, অটোরিকশায় বসে কাতরাল দগ্ধ শিশু 

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:২২ ১৮ জানুয়ারি ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কৃষি অধিদফতর আয়োজিত সভায় অংশ নিতে নগর থেকে উপজেলায় যাচ্ছিলেন স্থানীয় এমপি। তাকে দ্রুত পারাপারে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় সেতুতে যান চলাচল। এতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। আর সেই যানজটে আটকে পড়ে অটোরিকশায় বসে কাতরাচ্ছিল ছয় বছরের দগ্ধ শিশু। ওই সময় তার বাবার আকুতি- মিনতিতেও মেলেনি সেতু পারের অনুমতি।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কালুরঘাট সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, রোববার সকালে বাসায় হাড়িতে রাখা গরম পানিতে শরীর ঝলসে যায় উপজেলা সদরের মীর পাড়ার এনামুল হকের শিশুকন্যা তানজিলা হকের। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। 

চমেক হাসপাতালে যাবার পথেই মেয়েকে নিয়ে সেতু এলাকায় যানজটে আটকে পড়েন এনামুল। ওই সময় টোল কর্তৃপক্ষের কাছে শত আকুতি-মিনতি জানিয়েও সেতু পারাপারের অনুমতি পাননি তিনি। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের ন্যায় রোববার সকালে কালুরঘাট সেতুতে পশ্চিম থেকে পূর্বে যান পারাপারের জন্য প্রায় একঘন্টা বন্ধ রাখা হয় পূর্ব থেকে পশ্চিমের যান চলাচল। এতে সেতুর পূর্বপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর বেশ কিছু সময় পর একপর্যায়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যান পারাপারের সংকেত মিললেও মুহূর্তেই তা পুনরায় বন্ধ করে দেয় টোল কর্তৃপক্ষ। তখন বেলা প্রায় সাড়ে ১০টা। 

সেতু বন্ধের কারণ হিসেবে ‘এমপি পার হবেন’ বলে জানান টোল অফিসে দায়িত্বরত কর্মকর্তা। পরবর্তীতে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ প্রটোকলে এমপি পার হয়ে গেলে চালু হয় পূর্ব থেকে পশ্চিমের যান চলাচল। 

দগ্ধ তানজিলার বাবা এনামুল হক বলেন, এমপি পার হবেন বলে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা অটোরিকশায় বসে কাতরাতে হয় আমার শিশুটিকে। তার অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পারাপারের সুযোগ দিতে টোল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানালেও তারা তা কর্নপাত করেননি। পরে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টোল অফিসে কর্মরত নিজাম উদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে অন্যজন ছিলেন। বোয়ালখালী থানা পুলিশ পরিচয়ে এমপির পারাপারের জন্য সেতু বন্ধ রাখতে তাকে নির্দেশ দিয়েছিল বলে শুনেছি। 

এমপির প্রটোকলের দায়িত্ব থাকা বোয়ালখালী থানার এসআই জাহাঙ্গীর আল আমান বলেন, পুলিশ সেতু বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল কথাটি সত্য নয়। পুলিশ কখনো সেতু বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় না। এমপির সঙ্গে থাকা লোকজনরাই সেতু বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। 

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এমপি মোসলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি খুবই অমানবিক ও দুঃখজনক। খোঁজ নেয়া হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে