ভাঙা বাঁধে চলাচলে দুর্ভোগ

ঢাকা, শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৪ রজব ১৪৪২

ভাঙা বাঁধে চলাচলে দুর্ভোগ

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩০ ১৭ জানুয়ারি ২০২১  

নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই বন্যার পানির চাপে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে

নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই বন্যার পানির চাপে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে

জামালপুরের মাদারগঞ্জে আড়াআড়িভাবে মাটি ভরাট করে যমুনার একটি শাখা নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাজার স্থাপন করা হয়েছে। এতে নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় প্রতিবছর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

এলাকাবাসী শাখা নদীটির উপর থেকে মাটি অপসারণ করে সেখানে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে মাদারগঞ্জ পৌরসভার চাঁদপুর থেকে বালিজুড়ী ইউনিয়নের ভোলারচর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটর দৈর্ঘ্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ওই সময় বাঁধের দক্ষিণে যমুনার একটি শাখা নদীতে আড়াআড়িভাবে মাটি ভরাট করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে ওই স্থানে দোকান ঘর তুলে বাজার স্থাপন করা হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই বন্যার পানির চাপে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে। 

গত বন্যায় নাদাগাড়ি গ্রাম এলাকায় বাঁধের অন্তত দেড়শ মিটার এলাকা ভেঙে গেলেও এখন পর্যন্ত তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে বাঁধের ভাঙা অংশের দুই পাশে ৭-৮ গ্রামের লোকজনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাঁধের পাশে বসবাসকারী নাদাগাড়ী গ্রামের কৃষক শাহা আলী ও জাহাঙ্গীর আলমসহ দুর্ভোগের শিকার লোকজন জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তাদেরকে অন্তত দেড় কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে করতে হচ্ছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষিপণ্য পরিবহনে। শাখা নদীটি অবমুক্ত করে ওই স্থানে পাকা ব্রিজ নির্মাণ করলে প্রতিবছর বাঁধ ভেঙে তারা চলাচলের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে বলে মত ব্যক্ত করেন।

আলী আকবর জানান, গ্রামের কোনো প্রসূতি কিংবা গুরুতর অসুস্থ কোন রোগীকে মাচা করে কাধে নিয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। বাঁধের ভাঙা স্থান মেরামত কিংবা ব্রিজ হলে ওই সকল গ্রামের জনসাধারণ এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতো।

এ ব্যাপারে বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, গত বন্যয় বাঁধটি যেভাবে ভেঙেছে, তা মেরামত করতে অন্তত দুই কোটি টাকার প্রয়োজন। বন্যা পরবর্তীতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের বিবরণ ও ছবি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠিয়েছেন; কিন্ত এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। 

তিনি আরো জানান, কয়েকমাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা শাখা নদীর গতিপথ অবমুক্ত করে সেখানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য পরিদর্শণ করেছন; এরপর আর তারা কোন খোঁজ নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জামালপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, ওই বাঁধের বিষয়টি আমার নলেজে নেই। বাঁধটি কোথায় তা আমি এ মুহূর্তে আইডেনটিফাই করতে পারছি না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম