‘স্বপ্ননীড়ে’ থাকবে ২০০ পরিবার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭,   ১৭ রজব ১৪৪২

‘স্বপ্ননীড়ে’ থাকবে ২০০ পরিবার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৪৯ ১৭ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:০৩ ১৭ জানুয়ারি ২০২১

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গৃহহীন-ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ২০০ ঘর

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গৃহহীন-ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ২০০ ঘর

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ২০০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মিত হচ্ছে আধাপাকা ঘর স্বপ্ননীড়। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সরকারি খাস জমিতে এসব ঘর নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বরাদ্দপ্রাপ্ত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে- ২৩ জানুয়ারি সারাদেশে একযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনের পরপরই স্বপ্ননীড়ের ঘরগুলো গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ মুজিববর্ষে এ স্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাস জমিতে গৃহহীন ও ভূমিহীন ২০০ পরিবারকে আধাপাকা ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে।

ওই উপজেলার চরমছলন্দ গ্রামের আবুল হাশেমের স্ত্রী আয়েশা আক্তার। বিয়ের বছরেই ব্রহ্মপুত্রের করালগ্রাসে তাদের ভিটেবাড়িসহ সমস্ত জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অভাবের সংসারে এক টুকরো জমি কেনার সামর্থ্য ছিল না আয়েশার স্বামী-সন্তানের। প্রায় সাড়ে তিন যুগ অন্যের জায়গায় ঝুপড়ি বেঁধে কিংবা সরকারি অফিসের বারান্দায় রাত্রিযাপন করেছে তার পরিবার। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার পাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন চরমছলন্দ কাছারীপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন ঘরগুলো দেখে যান আয়েশা আক্তার। ওই সময় তার চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক খেলে যায়।

জানতে চাইলে দুই হাত তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করে তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনীসহ জীবনটাই আমার কেটেছে ঝুপড়ির মধ্যে। টাকা-পয়সার অভাবে ঘর করতে পারিনি। বর্ষা ও শীতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে থাকব। আর কষ্ট হবে না।’

গফরগাঁও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, চরআলগী ইউনিয়নে ১৬টি, সালটিয়া ইউনিয়নে ১৩টি, রাওনা ইউনিয়নে ১টি, গফরগাঁও ইউনিয়নে ৭টি, দত্তেরবাজার ইউনিয়নে ৪৮টি, পাঁচবাগ ইউনিয়নে ৫২টি, টাংগাব ইউনিয়নে ১৮টি, লংগাইর ইউনিয়নে ১৩টি, পাইথল ইউনিয়নে ১৬টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য দুই শতাংশ খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। বাথরুম, গোসলখানা, বারান্দাসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি আধাপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় হবে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা।

গফরগাঁওয়ের ইউএনও মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঘর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপকারভোগীদের মধ্যে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এইচএন/জেডআর