অসহায় রহিমার মুখে হাসি ফোটালেন ছবির

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭,   ২৪ রজব ১৪৪২

অসহায় রহিমার মুখে হাসি ফোটালেন ছবির

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১২ ১৬ জানুয়ারি ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের জীবনদাসকাঠি গ্রামের অসহায় নারী রহিমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার মুখে হাসি ফোটালেন ঝালকাঠি যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ছবির হোসেন। শনিবার দুপুরে ২ বান্ডিল টিন, ১ বস্তা চাল, আলু, তেল, ২টি কম্বল ও টাকা রহিমা বেগমের হাতে তুলে দেয়া হয়। এ সময় রহিমা বেগমের মাসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

রহিমা বেগম জানান, রহিমা ও আব্দুল মান্নাফ দম্পতির দাম্পত্য জীবনে ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে। বিষখালী নদীর তীরে বসবাস করায় ছোটবেলা থেকে এ দম্পতির একমাত্র পুত্র সন্তান মাছ ধরে সংসারে বাবার সঙ্গে সাহায্য করতো। সেই ছেলেটি ২০ বছর পূর্বে সংসারের বাড়তি উপার্জনের জন্য সাগরে মাছ ধরতে যায়। সেই যে গেল আর ফিরে এলো না। বয়সের ভারে আব্দুল মান্নাফ ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন।

স্বাভাবিক চলাফেরাও করতে না পারায় শুয়ে বসেই দিন পার করেন বৃদ্ধ মান্নাফ। ৩ মেয়েকেই পাত্রস্থ করেছেন। তবে গরিব পরিবারের জামাই তো গরিবই থাকে। জামাইরাও তো টেনেটুনে সংসার চালায়। ছোট মেয়েটা আমার কাছে থাকে। ওর স্বামী বাসের হেল্পার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে, রাস্তার পাশে মাটি দেয়ার কাজসহ যখন যে কাজ পায় তাই করে দু’মুঠো খাবার জোগার করতেই কষ্ট হয়। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা এবং ওষুধ খরচ মেটানো অনেক কষ্টসাধ্য বিষয়। ঘরের অবস্থাও অনেক খারাপ। বাতাস এলেই ঘরটি নড়তে থাকে। ভয়ে থাকি কখন যেন মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু ভেঙে পড়ে যায়।

তিনি আরো জানান, বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি পড়ে ভিজে যায় সবকিছু। শীতের সময় এলে শীতবস্ত্র ও শীত নিবারণের কোনো গরম কাপড় না থাকায় চটের বস্তা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। খাবার ব্যবস্থা ও স্বামীর ওষুধের খরচ মিটালে অন্যদিকে টাকা খরচের আর কোনো উপায় থাকে না। একা হলে কাজ করে ভালোভাবেই খেতে পারি কিন্তু অসুস্থ স্বামীকে ফেলে কিভাবে একা থাকবো। 

ছবির হোসেনের দেয়া সহায়তা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রহিমা জানান, স্বামী অসুস্থ, বিছানায় শুয়ে থাকে, ছেলে নাই। বহু কষ্টে শীত আর বৃষ্টিতে ভিজে জীবন কাটে। ঝালকাঠির ছবির ভাই এসে অনেক কিছুই দিয়েছেন। আল্লাহ তার মঙ্গল করুন।

ব্যবসায়ী ছবির হোসেন জানান, ফেসুবকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি অসহায় রহিমার কথা। রাজাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা জীবনদাশকাঠি অজোপাড়ায় তার ঘর। সেখানে শনিবার দুপুরে গিয়ে টিন, চাল, আলু, তেল, কম্বল ও টাকা রহিমা বেগমের হাতে তুলে দিয়েছি। নেয়ার চেয়ে দেয়ায় আনন্দ বেশি। তাই সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা করি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম