পিকে হালদারসহ ৬২ ‘সহযোগীর’ ১০৬০ কোটি টাকা ফ্রিজ

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৯ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পিকে হালদারসহ ৬২ ‘সহযোগীর’ ১০৬০ কোটি টাকা ফ্রিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৯ ১৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২১:১২ ১৪ জানুয়ারি ২০২১

পিকে হালদার- ফাইল ছবি

পিকে হালদার- ফাইল ছবি

প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে বিদেশে পলাতক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ ৬২ জন ‘সহযোগীর’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার এ তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, পিকে হালদারের ৬২ জন ‘সহযোগীর’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।

দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন,  এ পর্যন্ত পিকে হালদারের সঙ্গে ৬২ জনের লিংক পাওয়া গেছে বলে আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বিভিন্ন জনের মাধ্যমে পিকে হালদারের বিভিন্ন দিকে সূত্র রয়েছে। এরই মধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়েছে। 

দুদক সচিব আরো বলেন, পিকে হালদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তার এক ‘সহযোগী’ অবন্তিকাকে গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ২০ ডিসেম্বর দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, পিকে হালদারের পাচারের অর্থ ৭০ থেকে ৮০ জন নারীর (গার্লফ্রেন্ড) অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, পিকে হালদার অবিবাহিত এবং অবিবাহিত। সেই সুবাদে পাচারের কোটি কোটি টাকা ৭০-৮০ জন গার্লফ্রেন্ডের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। আমরা সেসব অ্যাকাউন্টের বিষয়েও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। 

খুরশীদ আলম আরো বলেন, হাইকোর্ট থেকে পিকে হালদারের বিষয়ে রুল হওয়ার পর আমার কাছে বেশকিছু ভুক্তভোগী এসেছেন। এসব ভুক্তভোগীদের  টাকা গার্লফ্রেন্ডের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন পিকে হালদার। এসব গার্লফ্রেন্ডের নাম-ঠিকানা পেয়েছি। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে আপাতত বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মামলা তদন্তে রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আর্থিক খাত থেকে আত্মীয়স্বজন চক্রের মাধ্যমে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অফিসিয়াল তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে।

এছাড়া দুদকের ক্যাসিনো দুর্নীতির মামলায় চার্জশিট তালিকায় লিজিং কোম্পানি ও আর্থিক খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত পিকে হালদারের নামও রয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। 

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে তিনি বিদেশে পালিয়ে যান বলে গত বছরের শুরুতে খবর প্রকাশ পায়। এরপর আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে তাকে অপসারণের পাশাপাশি তার সম্পত্তি জব্দ করা হয়। পিকে হালদার কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার পরই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে।

দুদকের এই মামলার মুখে নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৯ অক্টোবর হাইকোর্টে আবেদন করে আইএলএফএসএল জানায়, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দিতে জীবনের নিরাপত্তার জন্য আদালতের আশ্রয়ে পিকে হালদার দেশে ফিরতে চাইছেন। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে আবেদন করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড (আইএলএফএসএল)। 

এ আবেদন গ্রহণ করে ২১ অক্টোবর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে আদালত বলেন, পিকে হালদার বিমান থেকে দেশের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হোক। তিনি যাতে ‘নিরাপদে’ দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে পারেন সেজন্য পুলিশ প্রধান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেন আদালত।

কিন্তু ২৪ অক্টোবর পিকে হালদার দেশে ফিরছেন না বলে জানা যায়। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) আইনজীবী ই-মেইল করে অ্যাটর্নি জেনারেলেরে কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে পিকে হালদারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তার আইনজীবীরা।

পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তায় আবেদন করে দুদক। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলার নথি চায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

এরপর গত ২ ডিসেম্বর পিকে হালদারকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের জন্য পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালত।

পরে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, পিকে হালদারকে গ্রেফতার করতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

শিরোনাম

Bullet২৭ জানুয়ারি করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগের উদ্বোধন Bulletমুজিববর্ষের উপহার পেলো ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবার Bulletচুক্তি অনুযায়ী শিগগিরই করোনার ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’ পাচ্ছে বাংলাদেশ Bulletআজ ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন পাকা বাড়ি Bulletকরোনায় আক্রান্ত জিদান Bulletসিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন Bulletক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টাইগারদের হ্যাটট্রিক সিরিজ জয় Bulletসিরিজ জয়ে টাইগারদের লক্ষ্য ১৪৯ রান Bulletমাতারবাড়ীতে বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩ Bulletবঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ৪০ কিলোমিটার যানজট Bulletঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সব ফ্লাইট বাতিল Bulletঅবশেষে ফেব্রুয়ারিতে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান Bulletবিশ্বে করোনায় মৃত্যু ২১ লাখ ছাড়ালো Bulletঅর্ধশতকের আগেই ৪ উইকেট হারালো ক্যারবীয়রা