বার্লিনে ১৫ কিলোমিটারের করোনা বলয়

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৯ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বার্লিনে ১৫ কিলোমিটারের করোনা বলয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৬ ১৪ জানুয়ারি ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারির সংক্রমণ কমাতে আরো কড়া নিয়ম করেছে জার্মানি। নতুন নিয়মের অংশ হিসেবে রাজধানী বার্লিনে ১৫ কিলোমিটারের বেশি যাতায়াত করতে পারবেন না নাগরিকরা। টানা এক সপ্তাহ দৈনিক করোনার সংখ্যা দুইশ’র নীচে না নামা পর্যন্ত এই নিয়ম বহাল থাকবে। যদিও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, এর ফলে কোনো লাভ হবে না।

বার্লিনে সাধারণত দুইটি লাইনকে গুরুত্ব দেয়া হয়। এক, শহরকে ঘিরে থাকা হাইওয়ে। এবং দুই, রিজিওনাল ট্রানজিট লাইন। এই দুইয়ের বাইরে এবার একটি করোনা লাইন তৈরি করা হলো।

বার্লিন প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের বাইরে ১৫ কিলোমিটারের বেশি যাতায়াত করা যাবে না। পরবর্তী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সকলকে এ নিয়ম মেনে চলতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী করোনা ভাইরাসের হটস্পটের বাসিন্দারা তাদের শহর থেকে যৌক্তিক কারণ ছাড়া ১৫ কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণ করতে পারবেন না। এর মধ্যে ডে ট্রিপ বা একদিনে কোথাও গিয়ে সেদিনই আবার ফেরার মতো দূরত্বেও যেতে পারবেন না। এক সপ্তাহের হিসাবে গড়ে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার দুইশ’ জন করোনা আক্রান্ত, এমন জেলাকে হটস্পট হিসেবে ধরা হয়।

জার্মানিতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখে ২০০ হয়ে গেলেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। টানা সাত দিন এমন পরিস্থিতি চললে, পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বুধবার বার্লিনে আক্রান্তের গড় সংখ্যা ছিল ১৯৯ দশমিক নয়। তারপরেই বার্লিনের প্রাদেশিক সরকার নতুন নিয়ম বলবৎ করে। জার্মানির অন্য শহরগুলিতেও একই নিয়ম বলবৎ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে দেখে নেয়া হবে, সেখানে দৈনিক আক্রান্ত ২০০-র বেশি কি না।

ডিসেম্বরেই জার্মানিতে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেটিকে মৃদু লকডাউন বলা হয়েছিল। ১০ জানুয়ারি কড়াকড়ি শুরু হয়। কারণ, আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু তাতেও বার্লিনে বিশেষ লাভ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই নতুন নিয়ম বলবৎ করতে হয়েছে।

কিন্তু এতেও কি বিশেষ সুবিধা হবে? অনেকরই বক্তব্য, এর ফলে বিশেষ লাভ হবে না। লকডাউনের কড়াকড়ির মধ্যেও বহু মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন। দোকানে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে এক জায়গায় অনেক লোক জমা হতেই পারে।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, এলাকা চিহ্নিত করে কিলোমিটার বেঁধে দিলে কাজ হতো বেশি। বস্তুত, নতুন নিয়মে ছাড় পাবেন স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। বাড়িতে বসে যাঁদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়, তারাও ছাড় পাবেন বলে বার্লিন প্রশাসন জানিয়েছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী