‘জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর ধারা বাংলাদেশই প্রথম চালু করেছে’

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর ধারা বাংলাদেশই প্রথম চালু করেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩০ ১৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২০:৩৯ ১৪ জানুয়ারি ২০২১

বক্তব্য রাখছেন বেনজীর আহমেদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বক্তব্য রাখছেন বেনজীর আহমেদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ধারা বাংলাদেশই প্রথম চালু করেছে  বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

যেসব জঙ্গি সমাজের মূলধারায় ফিরে এসেছে তাদের অভিনন্দন জানিয়ে আইজিপি বলেন, তোমরা আলোর পথের অভিযাত্রী, এটা দুঃসাহসিক কাজ। এজন্য তোমাদের অভিনন্দন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর র‍্যাব সদর দফতরে ৯ জঙ্গির আত্মসমর্পণ উপলক্ষে 'নব দিগন্তের পথে' শীর্ষক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আত্মসমর্পণ করা জঙ্গিদের মধ্যে ৬ জন জেএমবির এবং ৩ জন আনসার আল ইসলামের সদস্য ছিলেন।

জঙ্গিদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, ওই ককটেল, জর্দার কৌটা বা এ জাতীয় জিনিসপত্র দিয়ে তোমরা কারো বিরুদ্ধেই বিজয়ী হতে পারবে না। বরং ওই পথে গিয়ে তোমরা পরিবার-সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছো। এতে প্রাণ যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই অন্ধকার জগৎ তোমার নিজেকে, পরিবারকে এবং রাষ্ট্রকে বিপদে ফেলতে পারে।

পুলিশ প্রধান বলেন, এখনও যারা এ ধরনের কাজে জড়িত আছেন, তাদের প্রতি আমাদের নজরদারি অব্যাহত আছে। র‌্যাব, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট, কাউন্টার টেরোরিজমসহ একাধিক টিম তাদের নজরদারিতে রেখেছে। আমাদের গোয়েন্দা কমিউনিটিও এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। হয়তো পরিপূর্ণভাবে সব ঘটনা শুরুতে বিনষ্ট করতে পারিনি। ১০০ ভাগ না হলেও অন্তত ৯০ ভাগেরও বেশি ঘটনা শুরুতেই বিনষ্ট করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, হলি আর্টিজানের পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের নানা বিধি-নিষেধ দিয়েছে। অনেকে বলেছে বাংলাদেশ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। পৃথিবীর কোনো দেশ আমাদের তখন সহায়তা করেনি। কিন্তু দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জঙ্গিবাদকে পরাজিত করেছি। শুধু একবার নয়, জঙ্গিবাদ বার বার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে আমরা বার বার পরাজিত করবো। কোনোক্রমেই দেশে জঙ্গিবাদের কার্যক্রম সফল হতে দেব না।

সভাপতির বক্তব্যে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যারা আজ সমাজের মূলধারায় ফেরার জন্য আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের এই সমাজ যেন আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করে। তুই জঙ্গি বলে যেন তাকে আবারও নেতিবাচক পথের দিকে ঠেলে দেয়া না হয়।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ একটা আদর্শিক সমস্যা। এটা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন সঠিক ধর্মীয় ব্যাখ্যা। তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে চাই। আজ আত্মসমর্পণ করা ৯ জনের মধ্যে ৮ জনই তাদের পরিবারের কাছে ফেরত যাবেন। একজনকে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে, আইনী কার্যক্রমের মাধ্যমে পরবর্তীতে ফেরত যাবেন তিনি।

র‍্যাব প্রধান বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমরা আভিযানিক কার্যক্রম আরো বেগবান করবো, কোথাও জঙ্গিরা টিকে থাকতে পারবে না। তাই যারা পলাতক আছেন, আইনের কাছে আত্মসমর্পন করুন। বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/জেডআর