শারীরিক সম্পর্ক-হত্যা-লাশ গুম: সবই সাহাবুদ্দিনের পরিকল্পিত

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১০ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চাঞ্চল্যকর মুর্শিদা হত্যাকাণ্ড

শারীরিক সম্পর্ক-হত্যা-লাশ গুম: সবই সাহাবুদ্দিনের পরিকল্পিত

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১২ ১৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৮:৪৪ ১৪ জানুয়ারি ২০২১

মাদারীপুরের ডাসারে চাঞ্চল্যকর মুর্শিদা আক্তার হত্যাকাণ্ডের পুরোটাই ছিল প্রেমিক সাহাবুদ্দিনের পূর্বপরিকল্পিত। বারবার বিয়ের চাপ দেয়ায় মুর্শিদাকে প্রথমে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় সে। এরপর বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। লাশ গুম করতে বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের পাশে নতুন একটি গর্ত খোঁড়ে সাহাবুদ্দিন। এরপর সেখানে মুর্শিদার লাশ ফেলে কংক্রিটের ঢালাই দেয়।

পুরো হত্যাকাণ্ডে সাহাবুদ্দিনকে সহযোগিতা করে তার মা হাসিনা বেগম, ছোট বোন, ছোট ভগ্নিপতি ও বড় ভগ্নিপতি। ঘটনার ১১ মাস পর গত ৯ জানুয়ারি মুর্শিদার লাশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। ওই সময় লাশের সঙ্গে পাওয়া যায় বোরকা, ব্যাগ, স্যান্ডেল, কানের দুলসহ বিভিন্ন জিনিস।

আসামি সাহাবুদ্দিন ডাসার থানার পূর্ব বোতলা গ্রামের মজিদ আকনের ছেলে।

আরো পড়ুন>>> প্রেমের সম্পর্ক থেকে দৈহিক মেলামেশা, বিয়ের চাপ দিতেই হত্যা

সাহাবুদ্দিন ও মুর্শিদার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, দুজনের দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল। একাধিকবার তারা শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছে। শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ের জন্য চাপ দিতে থেকে মুর্শিদা। এরপরই খুন করা হয় মুর্শিদাকে।

খুনি ছেলের বিচার চান সাহাবুদ্দিনের মা হাসিনা বেগম। নিহতের পরিবারের ধারণা হত্যাকাণ্ডে তিনিও জড়িত

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান মিয়া জানান, মামলার আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় জেলা ডিবি পুলিশ তদন্তভার গ্রহণ করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রধান আসামি সাহাবুদ্দিন আকন আদালতে আত্মসমর্পণ করে। পরে তার বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে হত্যার দায় স্বীকার করে সাহাবুদ্দিন। হত্যাকাণ্ডে তার মা হাসিনা বেগম জড়িত বলেও জানায় সে।

সাহাবুদ্দিন জানায়, মুর্শিদা বিয়ের জন্য বারবার চাপ দিতে থাকায় মানসিক চাপে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মুর্শিদাকে নিজ বাড়িতে ডেকে এনে প্রথমে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে সে। লাশ গুম করতে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্তে ফেলে কংক্রিট দিয়ে ঢালাই দিয়ে দেয়।

আরো পড়ুন>>> খুনি ছেলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাইলেন মা

সাহাবুদ্দিনের দেয়া তথ্যে শনিবার রাত ৮টার দিকে মুর্শিদার লাশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ নিখোঁজ হয় দশম শ্রেণির ছাত্রী মুর্শিদা আক্তার। কোথাও খুঁজে না পেয়ে থানায় জিডি করে তার পরিবার। এরপরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ৪ মার্চ সাহাবুদ্দিন ও তার মাসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন মুর্শিদার মা মাহিনুর বেগম।

মুর্শিদার মা মাহিনুর বেগম বলেন, সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। এরপরও কেন হত্যা করা হলো বুঝতে পারছি না। সাহাবুদ্দিন ঠান্ডা মাথার খুনি। আমরা যাতে সন্দেহ না করি সেজন্য হত্যাকাণ্ডের পর সে সবসময় আমাদের সঙ্গেই থাকত। জিডি করতেও আমার সঙ্গে থানায় গিয়েছিল সাহাবুদ্দিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর