খোকা থেকে জাতির জনক

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

খোকা থেকে জাতির জনক

মো. নাফিস উল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৪ ১৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:৫৪ ১৪ জানুয়ারি ২০২১

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ডেইলি বাংলাদেশ’ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগ থেকে প্রথম হয়েছেন মো. নাফিস উল্লাহ।

আজ তার রচনাটি প্রকাশ করা হলো-


খোকা থেকে জাতির জনক

ভূমিকা: হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির শ্রেষ্ঠতম অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতা ইতিহাসের সঙ্গে যার নাম জড়িয়ে আছে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের জাতির পিতা। তিনি শুধু বাংলাদেশের নন, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতাদের অন্যতম। দীর্ঘ সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি অসীম মর্যাদা লাভ করেন। কবির ভাষায়-

“যতদিন রবে পদ্মা-মেঘনা, যমুনা গৌরী বহমান 
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।”

জন্ম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ‘শেখ’ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান। মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। 

বংশপরিচয়: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা ছিলেন শেখ লুৎফর রহমান। শেখ বংশের গোড়াপত্তন করেছিলেন শেখ আউয়াল নামের এক ধার্মিক পুরুষ। তিনিই এ বংশের জন্ম দেন।

শৈশবকাল
বঙ্গবন্ধুর শৈশবকাল ছিল অত্যন্ত মধুর। ছোটবেলায় বাবা-মা তার নাম রেখেছিলেন খোকা। আর এলাকার অন্যরা তাকে ডাকত ‘মিঞাভাই’। তিনি ছোটবেলায় পাখি ভালোবাসতেন। পাশাপাশি দুরন্তপনাও ছিল তার মধ্যে। নিম্নে বঙ্গবন্ধুর শৈশবকালের কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো -

দুরন্তপনা: বঙ্গবন্ধুর শৈশবকাল কেটেছিল ভীষণ দুরন্তপনায়। এক গাছ থেকে আরেক গাছে ঝাঁপ দেওয়া, পুকুরে সাঁতার কাটা এগুলো ছিল বঙ্গবন্ধুর নিত্যদিনের কাজ।

খেলাধুলায় পারদর্শিতা: বঙ্গবন্ধু ছিলেন ফুটবল খেলায় অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি তার দলবল নিয়ে পিতার সাথে খেলতে যেতেন। স্কুলের ফুটবল দলে তার স্থান ছিল পাকাপোক্ত। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 
পুরো বছরই আমি ও আমার দল আব্বার অফিসার্স ক্লাবের সাথে খেলতাম।” (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-৩৭)

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি এ বিষয়ে বলেছিলেন, “আমি খুব ভালো ব্রতচারী করতাম।” (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-৩২)

অসাম্প্রদায়িক মনোভাব: অসাম্প্রদায়িকতা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি অন্যতম গুণ। তিনি কখনো জাত-ধর্ম ভেদে পার্থক্য সৃষ্টি করতেন না। তিনি সকলকে সমান দৃষ্টিতে দেখতেন। এজন্যই তিনি বাঙালির প্রিয় নেতা হতে পেরেছিলেন। 

বন্ধুত্বপরায়ণতা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত বন্ধুত্বপরায়ণ। তিনি নিজের সহপাঠী আব্দুল মালেককে বাঁচাতে গিয়ে প্রথম কারাবরণ করেন। এছাড়া তিনি সকল বিপদ-আপদে তার বন্ধুদের পাশে থাকতেন। 

ব্যক্তিজীবনে বঙ্গবন্ধু: ব্যক্তিজীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে ও সরল মনের মানুষ। দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করাই ছিল তার ব্রত। এজন্য তিনি জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছিলেন। জনগণের প্রিয় নেতা হতে পেরেছিলেন। 

মানবিক মূল্যবোধের পরিস্ফুটন 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ মানবিক গুণাবলির অধিকারী ছিলেন। এসকল গুণাবলিই বঙ্গবন্ধুকে ব্যক্তিত্বের উঁচু স্থানে নিয়ে গিয়েছিল। নিম্নে এগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হলো -

কর্তব্যবোধ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ। তিনি সকল কাজ অত্যন্ত দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্ববান। কর্তব্যবোধ তার মধ্যে সর্বদা জাগ্রত ছিল। 

ব্যক্তিত্বের বিকাশ: ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন মানবিক গুণাবলি, কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে নিজের ভেতর একটি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করেছিলেন। এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের গুণেই তিনি ‘খোকা’ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠেন। 

শিক্ষাজীবন: ১৯২৭ সালে সাত বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসস্থান থেকে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব বেশি ছিল না। এভাবেই শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা জীবন।

গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলে ভর্তি: ১৯৩৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলে ভর্তি হন। অতঃপর ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। 

ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সাথে আলোচনা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করেন। এতে সভাপতি করা হয় খন্দকার শামসুদ্দিন সাহেবকে এবং বঙ্গবন্ধুকে সম্পাদক। 

গোপালগঞ্জ মুসলিম লীগ: গোপালগঞ্জে মুসলিম লীগ ও মুসলিম লীগ ডিফেন্স কমিটি গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেক্রেটারি নির্বাচিত হন এবং নিজের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। 

পরোপকারিতা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বদা অন্যের উপকার করতে উদ্যোগী ছিলেন। তিনি সর্বদা চিন্তা করতেন, কীভাবে দেশের মানুষের উপকার করা যায়। কীভাবে তাদের সাহায্য করা যায়। তিনি সারাজীবন দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করে গেছেন। 

নেতৃত্বগুণ: নেতৃত্ব গুণটি ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে ছিল। তিনি ছিলেন যেমন বাঙালির নেতা, তেমনি ছিলেন স্কুলের ফুটবল দলের নেতা। 

ইসলামিয়া কলেজে প্রবেশ: ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। ইসলামিয়া কলেজ ছিল তখন ছাত্র আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। ১৯৪৭ সালে তিনি এখান থেকে স্নাতক পাশ করেন। 

পিতার আদর্শ অনুসরণ: বঙ্গবন্ধু সবসময় সকল ক্ষেত্রে পিতার আদর্শকে অনুসরণ করতেন। কখনো ভয়ে পিছপা হতেন না। বুকে সৎ সাহস রাখতেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আর যারা মা-বাবার আশীর্বাদ পায়, তাদের মতো সৌভাগ্যবান কয়জন?”

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এর পরিচয় পাওয়া যায় তার এক উক্তির মাধ্যমেঃ “হতেই পারে না। সে দলের মধ্যে কোঠারি করে। তাঁকে পদ দেওয়া যাবে না।” (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-২৯)

প্রখর আত্মবিশ্বাস: বঙ্গবন্ধু ছিলেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তিনি সবসময় নিজের আত্মমর্যাদার উপর আস্থা রাখতেন। সবসময় আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতেন।

রাজনৈতিক কার্যে গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করতেন। যেমন- ইসলামিয়া কলেজে থাকাকালে ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন পদে নির্বাচন দিয়ে প্রার্থী বাছাই করতেন। 

শিক্ষকদের কাছে আদর্শ ছাত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন শিক্ষকদের নিকট অত্যন্ত স্নেহের পাত্র। তিনি ছিলেন শিক্ষকদের নয়নের মণি। তিনি বলেছেন, “আমি কখনো অন্যায় আবদার করতাম না। এজন্য শিক্ষকরা আমাকে ভালোবাসতেন।”

অসাম্প্রদায়িক চেতনা: সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যে কত ভয়াবহ হতে পারে, তার পরশ পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অভিজ্ঞতায়। এজন্য তিনি আজীবন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখতে ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিসর বাড়াতে কাজ করে গেছেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর মাধ্যমে তিনি পূর্ণ রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন। 

আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন: ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে জন্ম নেয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। 

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার সংগ্রাম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। 

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন: বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এদেশের তরুণ ছাত্র সমাজ রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাদের বুকের উপর গুলি চালায়। এতে রফিক, শফিক, সালাম, বরকতসহ আরো অনেকে শহীদ হন। 

১৯৫৪ সালের নির্বাচন: ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়ী হয়। এর মাধ্যমে বাঙালি জাতি যে বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করে, তা প্রমাণিত হয়। 

১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন: ১৯৬৬ সালে ৫-৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এটি ছিল বাঙালির মুক্তিসনদ। এর মধ্যেই বাঙালি জাতির মুক্তির সকল প্রেরণা নিহিত ছিল।  

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান: ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুসহ আরো ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরবর্তীতে জনগণের চাপের মুখে সরকার তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। 

বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ: ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করে এবং তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। 

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বিজয় অর্জন করে। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় মানুষ আওয়ামী লীগের উপর আস্থা রাখে।

বঙ্গবন্ধু ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তার প্রচেষ্টা অপরিসীম। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ যেন পরস্পর সমার্থক শব্দ। 

৭ই মার্চের ভাষণ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে প্রায় দশ লক্ষ লোকের সামনে ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন, “এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে পুরো বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রেরণা পায়। ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু বলেন- “This may be my last message. From Today Bangladesh is independent.

মুজিবনগর সরকার গঠন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠন করা হয় মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার।

বিজয় অর্জন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালিরা দীর্ঘ নয় মাস সংগ্রাম করার পর অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে।

স্বদেশে প্রত্যাবর্তন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। অতঃপর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তার স্মরণে প্রতিবছর এই দিনটি ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। 

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ: স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সংগ্রাম শুরু করেন।

সংবিধান প্রণয়ন: ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করার এক বছরের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু জাতিকে সংবিধান উপহার দেন, যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা: স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে সর্বদা তৎপর ও সক্রিয় ছিলেন। তিনি সবসময় একটি সুন্দর রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন। 

অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ ও স্ব-নির্ভর রাষ্ট্র গঠন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, যা খুব প্রশংসনীয় ছিল। এগুলো পরবর্তীতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিম্নে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর কিছু উদ্যোগ নিম্নে দেওয়া হলো-

প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠন: বঙ্গবন্ধু চেষ্টা করেছিলেন একটি প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের। সে লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন। 

আইটিইউ এর সদস্যপদ লাভ: ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করে। আইটিইউ স্যাটেলাইট বা অরবিট ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিমালা তৈরি এবং এর বরাদ্দ তৈরি করতে সহযোগিতা দেয়া ও সমন্বয়ের কাজ করে থাকে।

অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের যেখানে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে, কোনো বিভেদ থাকবে না। 

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। যেখানে সকল মানুষের মতামতের মূল্য ও গুরুত্ব থাকবে।

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু: ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল হিসেবে পরিচিত। এসময় তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তার শাসনকার্য পরিচালনা করেন। স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল অপরিসীম।

বিশ্বনেতা বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বিশ্বসেরা নেতাদের অন্যতম। ১৯৭৪ সালে তিনি জাতিসংঘে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় ভাষণ প্রদান করেন। 

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বাধীন বাংলাদেশ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক ও নেতা। তিনি আমাদের মাঝে যে আদর্শের সন্ধান দিয়ে গেছেন, তা যদি বাঙালিরা সঠিকভাবে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে থাকে, তবে একদিন বাংলাদেশ অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে উঠবে। 

মৃত্যু: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। 

উপসংহার: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অনন্য নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও বাংলাদেশের জাতির পিতা। তার দূরদর্শী ও সঠিক নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তিনি তার নেতৃত্ব ও ভালোবাসার কারণেই বাঙালি জাতির হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাইতো কবি কণ্ঠে উচ্চারিত হয় - 

শোনো, একটি মুজিবরের থেকে
লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি
আকাশে বাতাসে ওঠে রণি।
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ। 

 

ডেইলি বাংলাদেশ/AN