ইথিওপিয়ায় সশস্ত্র হামলায় শিশুসহ নিহত ৮০

ঢাকা, বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৬ ১৪২৭,   ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ইথিওপিয়ায় সশস্ত্র হামলায় শিশুসহ নিহত ৮০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৫ ১৪ জানুয়ারি ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইথিওপিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে গত মঙ্গলবার সশস্ত্র হামলার এক ঘটনায় শিশুসহ ৮০ জনের বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (ইএইচআরসি) এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে ইথিওপিয়ার সরকার বলেছে, সংঘাতকবলিত তাইগ্রে অঞ্চলের সাবেক ক্ষমতাসীন দলের তিন সদস্যকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেয়ম মেসফিনও। খবর আল–জাজিরার।

মঙ্গলবারের হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন আহমেদ ইয়ামাম বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি ৮২ জনের লাশ গুনেছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হামলাকারীরা প্রধানত ছুরি ও তির নিয়ে হামলা চালায়। ব্যবহার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রও। হামলাকারীরা বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দিয়েছে।
ইএইচআরসির মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যারন ম্যাশো বলেন, সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ইথিওপিয়ার বেনিসাংগুল–গুমুজ এলাকায় মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাতটার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে অ্যারন ম্যাশো আরো বলেন, আমরা ৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। তাদের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মানুষ থেকে শুরু করে ২ বছরের শিশুও রয়েছে। তিনি বলেন, হামলার দায়দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কেও তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিমাঞ্চলীয় বেনিসাংগুল-গুমুজের ড্যালেট্টি এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এখানে সহিংসতায় কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর একটি হামলাতেই ২০৭ জন নিহত হন। ম্যাশো বলেন, অব্যাহতভাবে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে টিপিএলএফের নেতৃত্বে ইথিওপিয়া থেকে সামরিক সরকার উৎখাত করা হয়। ২০১৮ সালে আবি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগপর্যন্ত দেশটির রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ ছিল এ গোষ্ঠীর। তবে এরপর থেকে গোষ্ঠীটির নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, আবি তাদের এড়িয়ে চলেছেন। দেশের দুর্দশাময় পরিস্থিতির জন্যও আবি সরকারকে অভিযুক্ত করেন তারা। আর তখন থেকেই শুরু আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ