ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় দ্বিতীয়বারের মত অভিশংসিত ট্রাম্প

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৯ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় দ্বিতীয়বারের মত অভিশংসিত ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২০ ১৪ জানুয়ারি ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলে তাণ্ডবে উসকানি দেয়ার অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করেছে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ।

বুধবার এক অধিবেশনে ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি ২৩২-১৯৭ ভোটে পাস হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন। আর তাতে রিপাবলিকান দলের সদস্যরাও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন।

অভিশংসনের নিবন্ধে বলা হয়েছে, বারবার মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তাতে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে এবং এই ফল গ্রহণযোগ্য নয়।

আরো বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও সে দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা গুরুতরভাবে ব্যাহত করেছেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সততাকে তিনি হুমকির মধ্যে ফেলেছেন। এছাড়া তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যহত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যাকে একই মেয়াদে দুইবার অভিশংসন করা হলো। ট্রাম্প ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের সম্মুখীন হন।

অভিশংসিত হওয়ার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার সিনেটে বিচারের মুখোমুখি হবেন। ১০০ সদস্যের সিনেটে এখন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সমান সমান। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সম্মতি দিলে তবেই ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন।

আর সেই প্রক্রিয়া সারতে যদি ২০ জানুয়ারি পেরিয়ে যায়, তবে এবার কিছু না হলেও ভবিষ্যতে আর কখনো প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না ট্রাম্প।

এক মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হারেন এই ধনকুবের। কিন্তু নভেম্বরের ভোটে হার স্বীকার না করে উল্টো কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার দৃষ্টিকটূ প্রয়াস চালান ট্রাম্প।

তার ধারাবাহিকতায় গত ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে জো বাইডেনের বিজয়ের স্বীকৃতি দেয়ার দিনে বিক্ষুব্ধ ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে নজিরবিহীন হামলা চালায়। তাতে নিহত হয় পাঁচজন।

ওই হামলার ঠিক আগেই ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে উগ্রতার প্ররোচনা ছিল বলে সব মহল থেকে সমালোচনা ওঠে। রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতাও এর সমালোচনায় ‍মুখর হন।

এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালনের ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে ট্রাম্পের হাত থেকে ক্ষমতা নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের প্রতি আহ্বান জানায় কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।

এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সকে।

২৫তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যদি শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে ‘অপারগ’ হন, তাহলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

ওই সংশোধনীর ৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা হস্তান্তর করতে না পারলে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য তাকে ‘দায়িত্ব পালনে অপারগ’ ঘোষণা করতে পারেন।

কিন্তু পেন্স সেই আবেদনে সাড়া না দিলে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের প্রস্তাব আনার পথে হাঁটেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।

সিএনএন জানায়, সাম্প্রতিক হামলার অভিজ্ঞতায় ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে ক্যাপিটল ভবনে শুরু হয় প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন; ভবনের ভেতর-বাইরে গিজগিজ করছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

দেড়শ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের পর ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা এই প্রথম কংগ্রেস ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনে।

ভোটাভুটির আগে কয়েক ঘণ্টা উত্তপ্ত বিতর্ক চলে প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশনে।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘ইতিহাসকে এড়িয়ে যেতে আমরা পারি না। আমরা দেখেছি, প্রেসিডেন্ট দাঙ্গায়, সশস্ত্র বিদ্রোহে উসকানি দিয়েছেন। তাকে (ট্রাম্প) যেতেই হবে। তিনি জাতির জন্য স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান এক হুমকি।’

এর বিরোধিতায় রিপাবলিকান নেতারা এই অভিশংসন প্রস্তাবকে ডেমোক্র্যাটদের বাড়াবাড়ি বলে মন্তব্য করেন। তারা বলেন, সহিংসতা নিয়ে এখন উচ্চকণ্ঠ হলেও সম্প্রতি বর্ণ বিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা সহিংস বিক্ষোভ করলেও তখন ডেমোক্র্যাটদের কোনো তৎপরতা ছিল না।

তবে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির যে ক’জন সদস্য ট্রাম্পকে অভিশংসন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, তারা দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা স্টেনি হয়ার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাতে কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে সিনেটে রিপাবলিকানদের নেতা মিচ ম্যাককনেল প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ট্রাম্পকে সরাতে অভিসংশন নিয়ে সিনেটের জরুরি অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

তার মানে দাঁড়ায় বিদায়ের আগে ট্রাম্পের পদ হারানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ; অর্থাৎ ভবিষ্যতে যাই হোক না কেন, এই দফায় মেয়াদ পূর্ণ করতেই যাচ্ছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী