পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের উৎসব, যার বাচ্চা যত কাঁদে সে তত সৌভাগ্যবান

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৯ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের উৎসব, যার বাচ্চা যত কাঁদে সে তত সৌভাগ্যবান

সাত রঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৩ ১৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:০৯ ১৪ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: যার বাচ্চা যত কাঁদে সে তত সৌভাগ্য

ছবি: যার বাচ্চা যত কাঁদে সে তত সৌভাগ্য

উৎসব আমাদের সবারই প্রিয়। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক যেকোনো উৎসব।পৃথিবী জুড়েই রয়েছে অযুত মানুষের নিযুত সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে নানা রকম অনুষ্ঠান আর উৎসব। বিশ্বায়নের এ যুগে বিভিন্ন প্রান্তে উদযাপিত উৎসবের হালনাগাদ তথ্য আমাদের কাছে চলে আসছে। 

ফলে উৎসব এখন আর ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা জাতীয় সীমার মধ্যে আবদ্ধ নেই। হাজারো বর্ণিল উৎসব উদযাপিত হয় প্রতিবছর। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোই আমাদের চোখে পড়ে। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও কিছু উৎসবে আমরা আকৃষ্ট না হয়ে পারি না। দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ইতিহাস রয়েছে এসব অনুষ্ঠানের পেছনে। চলুন জেনে আসি পৃথিবীর নানা প্রান্তের এমন কিছু আয়োজন নিয়ে। 

মহা মস্তক অভিষেক, ভারত

বাহুবলী উৎসব৯৮১ খ্রিস্টাব্দ হতে উদযাপিত হয়ে আসছে এই উৎসব। ১৭ মিটার উঁচু বিশাল আকৃতির এক শিলা দিয়ে তৈরি বাহুবলীর একটি মূর্তি অনুমোদিত হওয়ার পর থেকে। বাহুবলী কথাটির অর্থ হলো হাতের জোর। আর বাহুবলী হলেন জৈন সম্প্রদায়ের লোকজনদের অনেক সম্মানিত একজন দেবতা। তাদের বিশ্বাস, বাহুবলীর বসবাস ছিলো প্রায় বিশ হাজার বছর আগে। সেই সময়ে তিনি তার ভাই ভারতকে আভানাথ রাজ্যের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে  চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। 

তার প্রকাণ্ড বাহু শক্তির বলেই সহোদর তার হাতেই জীবন হারায়। নিজের এই কাজটির জন্য তিনি বিক্ষুব্ধ হয়ে যান এবং প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ কাপড় পরিধান প্রত্যাখ্যাত করেন। এছাড়াও তিনি তার সব চুল ছেঁটে ফেলেন, বিবস্ত্র অবস্থায় অনড় হয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন গোটা একটি বছর। মূর্তি স্থাপনের অনুষ্ঠানের আয়োজনে প্রায় বিশ লাখ ভক্ত উপাসকেরা দশ দিন ধরে বাহুবলীর মূর্তি ধৌত করেন। এই মূর্তি ধৌতকরণ এতটাই মঙ্গলজনক মানা হয় যে, ২০০৬ সালে একজন বিশিষ্ট জৈন ১.৩ মিলিয়ন ডলারে নিলাম জিতে সবার প্রথমে বাহুবলীর মূর্তি ধোয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

নাকি সুমো, জাপান

নাকি সুমো, জাপানপ্রতি বছর এপ্রিল মাসে জাপানের টোকিওতে নাকি সুমো নামের অদ্ভুত এক খেলার উৎসব হয়। সুমো শব্দটি দেখেই ভাববেন না এটি দৈত্যাকার সুমো পালোয়ানদের কোনো কুস্তি খেলা। কারণ নাকি সুমোতে প্রত্যেক সুমো পালোয়ানের কোলে থাকে অনূর্ধ্ব দুই বছরের এক শিশু। খেলার ময়দানে উভয় সুমো তাদের কোলের শিশুকে আরামদায়কভাবে ধরে দোল দিতে থাকে আর রেফারি পালাক্রমে উভয় শিশুর দিকে চেয়ে 'নাকি নাকি' বলে চিৎকার করতে থাকেন। যার কোলের শিশুটি পরে কাঁদবে সেই হবে বিজয়ী!

গ্রেট মোনলাম ফেস্টিভ্যাল, লাবুলেং আশ্রম, পূর্ব তিব্বত

গ্রেট মোনলাম ফেস্টিভ্যাল, লাবুলেং আশ্রম, পূর্ব তিব্বতলাসার বাইরে ১৭০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া লাবুলেং তিব্বতের মুখ্য আশ্রম শহর হিসেবে পরিচিত। এটি দালাই লামার অনুসারী হলুদ টুপি সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দু। চার দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের এই আয়োজনে গোটা সন্ন্যাসী গোষ্ঠী তাদের মহান তর্ক-বিতর্ক পেশ করেন জীবিত বুদ্ধের উপস্থিতিতে। এর উদ্দেশ্য থাকে মূলত প্রজ্ঞাময়দের আশীর্বাদের জন্য প্রার্থনা করা। 

এই জায়গাটির অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,২৬০ মিটার উঁচুতে এবং যে সময়ে এর আয়োজন করা হয়, তখন সেখানকার তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে আসে। সন্ন্যাসীরা তখন প্রবল তুষার ঝড়ের মধ্যেও পুরোটা সময় সেখানে অবিচলিত অবস্থায় বসে থাকেন। দ্য গ্রেট মোনলাম ফেস্টিভ্যাল তিব্বতীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রথম চন্দ্র মাসের (সাধারণত ফেব্রুয়ারির দিকে) অনুষ্ঠিত হয়। তিব্বতের নতুন বছর শুরুর অগ্রদূত হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।

ওয়ার্ম চার্মিং, ইংল্যান্ড

ওয়ার্ম চার্মিং, ইংল্যান্ডইংরেজি স্নেক চার্মার এর বাংলা প্রতিশব্দ যদি হয় সাপুড়ে, তাহলে ওর্ম চার্মার এর প্রতিশব্দ কী কেঁচুড়ে হওয়া সম্ভব? প্রতিশব্দটি সঠিক হোক আর না হোক, ইংল্যান্ডের ডেভনের ব্ল্যাকঅটন গ্রামে প্রতিবছর মে মাসে অনুষ্ঠিত হয় এক বিচিত্র উৎসব, যার নাম ‘ব্ল্যাকঅটনস ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ওর্ম চার্মিং’। এই উৎসবে ব্যক্তিগতভাবে নয়, দলগতভাবে যোগ দিতে হয়। প্রতিটি দলকে কোনো আবাদযোগ্য জমিতে এক বর্গ মিটার জমি এবং ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয়। এই ১৫ মিনিটে তারা পৃথিবীর তাবৎ কৌশল প্রয়োগ করতে পারবেন, কেবল খুঁড়তে পারবেন না। ১৫ মিনিটে যে দল সবচেয়ে বেশি কেঁচো মাটির উপর নিয়ে আসতে পারবে, তারাই বিজয়ী।

ইউকোনকান্তো, ফিনল্যান্ড

ইউকোনকান্তো, ফিনল্যান্ডফিনল্যান্ডের সংকাজার্ভিতে প্রতি বছর অক্টোবর মাসে উদযাপিত হয় ইউকোনকান্তো বা ওয়াইফ ক্যারিং কম্পিটিশন। নাম থেকে ধারণা করা যায় এই উৎসবের ধরণ। ১৯৯২ সাল থেকেই ফিনল্যান্ডে এটি উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রতিযোগীদের আড়াই শ মিটারে কিছু বেশি পথ অতিক্রম করতে হয়, যে পথে তাদের জন্য অপেক্ষা করে বিভিন্ন হেঁয়ালিপূর্ণ বাধা। এসব বাধা পেরিয়ে যিনি সবার আগে গন্তব্যে পৌঁছুবেন, তিনিই বিজয়ী। ও হ্যাঁ, এই পথটুকু কিন্তু অবশ্যই নিজের স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে পাড়ি দিতে হবে! সবার আগে স্ত্রীকে বয়ে নিতে পারলে বিজয়ী প্রতিযোগী পুরস্কার হিসেবে তার স্ত্রীর সমান ওজনের বিয়ার পান!

লা টমাটিনা, স্পেন

 লা টমাটিনা, স্পেন২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউডের সিনেমা জিন্দেগি না মিলেগি দোবারার কল্যাণে ‘লা টমাটিনা’ বা টমেটো উৎসবের সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত। প্রতিবছর আগস্ট মাসের শেষ বুধবার স্পেনের বুনোল শহরে মহাসমারোহে উদযাপিত হয় এই উৎসব। উৎসবের স্থায়িত্বকাল হয় মাত্র ঘণ্টা দুয়েক। তবে এই ছোট্ট সময়ের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষারত থাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষ। এখানে কোনো জয়-পরাজয় নেই, কেবল আনন্দ করাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এজন্য এর নিয়মও বেশ সহজ। নির্ধারিত স্থানে ট্রাকের পর ট্রাক ভর্তি পাকা টসটসে টমেটো আসবে। 

আপনার কাজ কেবল সেগুলো হাতে নিয়ে চাপ দিয়ে ফাটিয়ে আপনার বন্ধু কিংবা সঙ্গীদের গায়ে ছুঁড়ে মারা। উৎসব শুরুর কয়েক মিনিটের মাঝেই অংশগ্রহণকারীরা আপাদমস্তক লাল হয়ে যান আর বুনুলের রাস্তায় হয় টমেটো সসের বন্যা! উৎসবটি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে এখানে যোগ দিতে হলে অন্তত ৩ থেকে ৪ মাস আগেই আবেদন করতে হয়। কারণ, বুনোল শহরটি ছোট হওয়ায় অধিক মানুষের জায়গা সংকুলান সম্ভব হয় না। কর্তৃপক্ষ তাই আবেদনপত্রের ভিত্তিতে দেশি এবং বিদেশি পর্যটকদের উৎসবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়ে থাকে।

চেং চাউ বান ফেস্টিভ্যাল, হংকং

 চেং চাউ বান ফেস্টিভ্যাল, হংকংতৈলাক্ত লম্বা বাঁশে চড়ার ব্যর্থতার গল্প আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। তবে বান দিয়ে ঢাকা বাঁশে আরোহণ করাও কিন্তু কোনো অংশেই সহজ কাজ নয়। আর সহজ নয় বলেই তো এটি একটি উৎসব, যেখানে বারবার ব্যর্থ হয়েও সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছতে পারলে প্রতিযোগী পেয়ে যাবেন ভাগ্যের সন্ধান! হ্যাঁ, অষ্টাদশ শতক থেকে হংকংয়ে উদযাপিত হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্বাস, যত উপর থেকে তারা একটি বান সংগ্রহ করতে পারবেন, তাদের সৌভাগ্য তত প্রসারিত হবে।

উৎসবের পূর্বে শতাধিক বাঁশকে বান দিয়ে ঢেকে দিয়ে ৬০ ফুট উচ্চতার টাওয়ার সদৃশ করে তোলা হয়। পরে প্রতিবার তিনটি করে বানের টাওয়ার উৎসব কেন্দ্রে রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিযোগী তাতে অংশগ্রহণ করে সেগুলো বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করেন। আর তখন ঝরে পড়তে থাকে বানগুলো। একসময় বাঁশগুলো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে গেলে নতুন করে তিনটি টাওয়ার এনে রাখা হয়। এভাবেই চলতে থাকে চেং চাউ বান ফেস্টিভ্যাল।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে

শিরোনাম

Bullet২৭ জানুয়ারি করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগের উদ্বোধন Bulletমুজিববর্ষের উপহার পেলো ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবার Bulletচুক্তি অনুযায়ী শিগগিরই করোনার ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’ পাচ্ছে বাংলাদেশ Bulletআজ ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন পাকা বাড়ি Bulletকরোনায় আক্রান্ত জিদান Bulletসিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন Bulletক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টাইগারদের হ্যাটট্রিক সিরিজ জয় Bulletসিরিজ জয়ে টাইগারদের লক্ষ্য ১৪৯ রান Bulletমাতারবাড়ীতে বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩ Bulletবঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ৪০ কিলোমিটার যানজট Bulletঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সব ফ্লাইট বাতিল Bulletঅবশেষে ফেব্রুয়ারিতে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান Bulletবিশ্বে করোনায় মৃত্যু ২১ লাখ ছাড়ালো Bulletঅর্ধশতকের আগেই ৪ উইকেট হারালো ক্যারবীয়রা