১২ বছরের শিশুর হাতে একই বয়সের আরেক শিশু খুন

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

১২ বছরের শিশুর হাতে একই বয়সের আরেক শিশু খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৯ ১৩ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২১:৫৭ ১৩ জানুয়ারি ২০২১

সিফাত হত্যায় অভিযুক্ত পাঁচজন

সিফাত হত্যায় অভিযুক্ত পাঁচজন

কথা কাটাকাটির দ্বন্দ্বের জেরে ১২ বছরের অসহায় শিশু সিফাতকে হত্যা করে একই বয়সের ছয় শিশু। এমন অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের বয়স ১২ বছর। আর বাকিদের বয়স ১০ বছর। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে পাগলপ্রায় সিফাতের মা। আর শিশু অপরাধীদের বাঁচাতে মামলাকারী সিফাতের নানা আজমলকে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। 

পুলিশ বলছে, বুড়িগঙ্গার তীরে বেড়ানো শেষে বাসায় ফেরার পথে সিফাত খুনের ঘটনায় তার নানা আজগর আলী ছয় শিশুর নাম উল্লেখ করে কামরাঙ্গীরচর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরই মধ্যে গত রোববার অভিযুক্ত গ্রেফতার শিশুরা ১৬৪ ধারায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা এখন টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। 

মামলার তথ্যানুযায়ী, সিফাত খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ছয় শিশুর মধ্যে ১০ বছর বয়সী শিশু দুই জন রয়েছে। বাকি চার জনের বয়সও মাত্র ১২।

সিফাত হত্যার সূত্রপাত

স্থানীয় ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর পা মাড়িয়ে দেয় সিফাত। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিশুটি তার সঙ্গীদের নিয়ে সিফাতকে ধাওয়া করে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিফাত মারা যায়। 

এ ব্যাপারে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কর্মজীবনে এতো কম বয়সে শিশুদের অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি পাইনি। সিফাত হত্যায় জড়িত সবার বয়স ১০ থেকে ১২ বছর। অল্প বয়সে খুনের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

যেভাবে অসহায় সিফাত 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সিফাতের মা–বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে মায়ের কাছেই বড় হচ্ছিল সিফাত। মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে নানার কাছে লালিত-পালিত হয় সে। 

যা বলছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই মো. নুরুজ্জামান বলেন, সিফাত হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের গ্যাং-এর সন্ধান মিলেছে। পা মাড়ানোর ঘটনা থেকে সিফাত হত্যা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। 

এ পুলিশ জানান, দণ্ডবিধি অনুযায়ী ৯ বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে আসামি করার কোনো নিয়ম নেই। তবে আসামি সবার বয়স ১০ বছরের বেশি।

যেভাবে হত্যা করা হয় সিফাতকে 

পুলিশের ভাষ্য ও মামলার তথ্যানুযায়ী, সিফাতকে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত শিশু মা–বাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকে। এই শিশুটি ধারালো চাকু দিয়ে সিফাতের তলপেটে আঘাত করে। আর পাঁচজনের বসবাস একই এলাকায়। এর মধ্যে দুইজন কারখানার শ্রমিক।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিফাত হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষী দিয়েছে তিন শিশু। তাদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে বিষয়টি আমাদের নজর এসেছে। কেউ আবারো তাদের হুমকি দিলে দ্রুত থানায় অবগত করতে সাক্ষীদাতা শিশুদের পরিবারকে জানানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/টিএএস