ডিজিটালে কদর কমছে রঙ-তুলির 

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ডিজিটালে কদর কমছে রঙ-তুলির 

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৭ ১৩ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:১২ ১৩ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সর্বত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাইনবোর্ড, ব্যানার লিখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠায় কদর কমতে শুরু করেছে রঙ-তুলির। 

বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যানার লিখন ছড়িয়ে পড়েছে শহরসহ গ্রামের আনাচে কানাচে। ফলে এখন আর সহসায় চোখে পড়ছেনা দেয়ালে কাপড় টাঙিয়ে রঙ-তুলি দিয়ে ব্যানার লিখনসহ বিভিন্ন স্থানে আঁকাআঁকি। দেয়াল লিখনের পরিবর্তে বর্তমানে সব জায়গায় যেন শোভা পাচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যানার। 

এ পদ্ধতির লিখন ছাড়া যেন কিছুই কল্পনা করা যায় না। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ডিজিটাল নির্ভর কর্মক্ষেত্রে সাইনবোর্ড, ব্যানার লেখার কদর দিন দিন কমে যাওয়ায় হারাতে বসেছে রঙ- তুলির আঁচলের মাধ্যমে চরু শিল্পীদের চির চেনা পেশা। অথচ একসময় রঙ-তুলিই ছিল সৌখিন পেশাজীবী চারু শিল্পীদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। 

চারুশিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করেছে চারু ও কারু কলা শিক্ষা। বাস্তবিকভাবে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের সুযোগ না দেখে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কেউ। তাই তো ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে চারু শিল্প। তবুও শতপ্রতিকূলতার মাঝে টিকে আছেন গুটি কয়েক চারু শিল্পী। 

পৌর শহরসহ উপজেলা অন্ত:ত ২০-২৫ জন এ পেশার সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে এ পেশার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ লোকজনই আর কাজ করছেন না। 

রঙ-তুলি পেশার সঙ্গে জড়িত মো. আলাউদ্দিন বলেন, এক সময় সরকারি অফিস আদালতরে সব সাইনর্বোড, ব্যানার লিখতাম। সকাল থেকে রাত অবধি বিভিন্ন দিবসসহ নানান সামাজিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে কাজ করতে হতো। প্রতিদিন হাজার টাকা আয় হত। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল ব্যানারের প্রভাবে সাইনর্বোড, ব্যানার লিখনের কাজ তেমন একটা আসে না বললইে চলে। তাই এখন আর এ কাজ করা হয় না। 

মো. সৌরভ বলেন, বর্তমানে যারা এ পেশায় জড়িত ছিল এরমধ্যে বেশিরভাগলোকজনই এ কাজ ছেড়ে দিয়েছে। অন্য কাজের সুযোগ না থাকায় তিনি এ পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন বলে জানায়। বর্তমানে সরকারি বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাঝে মধ্যে কিছু কাজ হয়। তবে কাজ অনুযায়ী মজুরি ভালো পাওয়া যায় না বলে জানায়। 

তিনি আরো বলেন, এক সময় শিক্ষিত যুব সমাজের সম্মানের সঙ্গে এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন ডিজিটাল ব্যানারের ব্যবসা ভালো হওয়ায় নতুন করে কেউ এ পেশায় আসছেন না। 

ব্যবসায়ী মো. আবু ছায়েদ মিয়া বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাইন বোর্ড লিখলে যেমন সুন্দর হয় পাশাপাশি এ দীর্ঘস্থায়ী থাকে। তাই দোকানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাইন বোর্ড লিখা হয়েছে। 

আখাউড়া সচেতন নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি মুসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে আধুনকি যুগে ডিজিটিাল নির্ভর র্কমক্ষেত্রের ডিজিটাল সাইনর্বোড বা ব্যানার লিখন কাজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দিন দিন কদর কমছে মূল ধারার চারু শিল্পীদের।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে