বগুড়ায় নিজ বাড়িতেই কুপিয়ে হত্যা, পাঁচ স্বজন গ্রেফতার

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৯ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বগুড়ায় নিজ বাড়িতেই কুপিয়ে হত্যা, পাঁচ স্বজন গ্রেফতার

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৫ ১৩ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:০৯ ১৩ জানুয়ারি ২০২১

কৃষক ফরিদুল হত্যায় গ্রেফতারকৃত পাঁচ স্বজন

কৃষক ফরিদুল হত্যায় গ্রেফতারকৃত পাঁচ স্বজন

বগুড়া শেরপুরে ব্যবসায়ী ও কৃষক ফরিদুল হত্যা মামলায় পাঁচ স্বজনকে জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং টাকা পয়সা লেনদেনের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শেরপুর উপজেলার হলদিবাড়ী আটাপাড়া গ্রামের ওমর ফারুক, ইটালী মধ্যেপাড়া গ্রামের ফারুক আহম্মেদ, আব্দুর রাজ্জাক, জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার স্ত্রী শাপলা খাতুন।

গ্রেফতারকৃতদেন মধ্যে জিয়াউর রহমান জিয়া ও শাপলা খাতুন নিহত ফরিদুলের আপন ছোট ভাই ও ভাবি। ফারুক ফরিদুলের আপন ভাতিজা ও আব্দুর রাজ্জাক সম্পর্কে আপন চাচা। গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক ফরিদুলের সৎ শ্যালক।

ফরিদুল উপজেলার ইটালী মধ্যপাড়া গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী। ফরিদুল ইসলাম ব্যবসার পাশাপাশি একজন কৃষকও ছিলেন। গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়িতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে মানিকগঞ্জ থেকে ওমর ফারুককে আটক করে। ওমর ফারুক নিজেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে নাটক সাজিয়েছিলেন। এতে পুলিশের সন্দেহ হয়, পরে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অন্য চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে জেলা এসপি কার্যালয়ে এসপি আলী আশরাফ ভূঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মায়ের জমি-জমা নিয়ে ফরিদুলের সঙ্গে তার অন্যান্য ভাইদের দ্বন্দ্ব ছিল। ফরিদুল কৌশলে তার মায়ের এবং বোনদের কাছ থেকে বসতবাড়ির এবং উপজেলার ছোনকা বাজারের পাশে মূল্যবান জায়গা রেজিস্ট্রি করে নেন। এ কারণে ভাইদের সঙ্গে তার চরম শত্রুতা শুরু হয়।

অন্যদিকে ফরিদুল তার সৎ শ্যালক ওমর ফারুকের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকার জমি বন্ধক নিয়েছিল। এ টাকা ফেরত দেয়া নিয়ে তার সঙ্গে শত্রুতা শুরু হয়। এতে সবাই মিলে ফরিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

এসপি আলী আশরাফ বলেন, গত ৫ জানুয়ারি ফরিদুলের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। মাঠে কৃষি কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেন ফরিদুল। বাড়ির ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ফারুক আহম্মেদ তাকে ধারালো চাকু দিয়ে মাথার পেছনে দুইটি আঘাত করে। অন্যদিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যরা দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ফরিদুলকে ধরে ফেলে এবং বটি ও চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকারীরা মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ছাড়েন।

এ হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৬ জানুয়ারি ফরিদুলের স্ত্রী ইসমত আরা অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এসপি বলেন, বুধবার দুইজন আসামিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হবে। আর অন্য তিনজনকে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে পাঠানো হবে।

শেরপুর সার্কেলের অ্যাডিশনাল এসপি মো. গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে শেরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাচ্চু বিশ্বাস এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফরিদুল হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ