নাম সর্বস্ব ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বই-ভাতা উত্তোলন

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১০ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নাম সর্বস্ব ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বই-ভাতা উত্তোলন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১০ ১৩ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১১:১৩ ১৩ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কাগজ-কলমে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান থাকলেও বাস্তবে কোনো চিহ্নই দেখা যাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানের। তারপরও দিনের-পর-দিন ভোগ করছে সরকারি নানা সুবিধা। 

এমনই এক প্রতিষ্ঠান দেখা মিলছে নেত্রকোনার পূবর্ধলায়। নাম সর্বস্ব ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বই, সরকারি ভাতাসহ করোনাকালীন ভাতাও উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। 

শুধু তাই নয় জমিদাতার ছেলেকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি বানিয়ে এক একবার এক এক রকম স্বাক্ষর জাল করে দেয়া হয়েছে শিক্ষক নিয়োগ। রয়েছে প্রশাসনের পরিদর্শন বহি। 

এ বিষয়ে জালিয়াতির স্বীকার ভুক্তভোগীরা এলাকাবাসীসহ লিখিত অভিযোগ করলেও দীর্ঘদিনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গোহালাকান্দা ইউপির শুভখাই গ্রামের মৃত রজব আলীর ১৯৭৮ সালে শুভখাই এবতেদায়ী মাদরাসার নামে দেয়া ৪২ শতাংশ জমিতে কোনো রকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিহ্ন মাত্র নেই। ঘাস খাচ্ছে গরু। অথচ কাগজে পত্রে রয়েছে এবতেদায়ী মাদরাসার প্রতিবছর সরকারি বইসহ বিভিন্ন ভাতা উত্তোলনের প্রমাণ।

 

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ২০১৩ সাল থেকে ভুয়া কমিটি করে সভাপতির স্বাক্ষর করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করেছে। ছাত্র ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণসহ পাশের হার ভালো দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করতেও আবেদন করেছে। এমনকি করোনাকালীন ভাতা উত্তোলনও করে ২০ হাজার টাকার চেক নিয়েছেন ভুয়া শিক্ষকরা। কাগজে পত্রে উল্লেখিত বিল্ডিং টিউবওয়েল বেঞ্চসহ কিছুই নেই। 

জমিদাতার ছেলে ফজলুল হককে সভাপতি বানিয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন কাগজে রেজুলেশনে বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে। স্বাক্ষরেও রয়েছে ভিন্নতা। জমি দাতার ছেলেকে সভাপতি করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি করলেও সদস্যরা জানেন না কেউই। 

ফজলুল হক জানান, ‘আমার স্বাক্ষর আমিই জানিনা। পড়েছি মাত্র টু থ্রি পর্যন্ত। এম পাশের স্বাক্ষরও আছে। এগুলো কিভাবে দিলাম।’ 

শ্যামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার জানান, ২০১৮ সালে নতুন একটি মাদরাসা হবে বলে শ্যামগঞ্জের কুমুদোগঞ্জ স্কুলে নিয়ে একটি পরীক্ষা দেওয়ায় এলাকার কয়েকজন। পরীক্ষার পর ১ হাজার টাকাও দেন তারা।  

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন মোড়ল, আতাউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, তারা গত কয়েকমাস আগে এমন অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। শিক্ষক সেজে যারা টাকা তুলছেন তাদেরকেও জিজ্ঞেস করলেও তারা উল্টোপাল্টা বলেন।

অভিযুক্ত মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল আলমের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম জানান, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি এখন নেই। এটি যা দেখছেন তাই। কোনো বেতন ভাতা পাননি। এটি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।   

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল বারী করোনাকালীন ভাতার তালিকা পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমি তালিকা পাঠিয়েছি। কিন্তু পেয়েছে কিনা জানিনা। ইউএনওর নির্দেশ আছে কথা না বলতে। ইউএনও পরিদর্শন করে এসেছেন। 

এ বিষয়ে কথা বলতে ইউএনও উম্মে কুলসুমের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বিরক্তের সুরে বলেন, এ বিষয়ে মাধ্যমিক কর্মকর্তা আছে সেখানে যান। আমার কাছে কি? পরিদর্শন বহির ব্যাপারে তিনি কিছু বলবেন না। কেউ এ নিয়ে অভিযোগ করতে আসেনি বলে জানান তিনি।  

অন্যদিকে সোমবার বিকেলে ইউএনও’র বক্তব্য আনার পরপরই জমিদাতার ছেলেকে ডেকে পাঠিয়েছেন ইউএনও। তাদেরকে চাপ দিচ্ছেন মোয়াজ্জিনের ঘরটি দেখাতে এবং ভুয়া মাদরাসার পক্ষে রাজি হয়ে যেতে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই হাবিবুর রহমান। 

তিনি আরো বলেন, একজন নায়েবও এসে গেছেন এরই মধ্যে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে