অস্ত্র মামলায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৯ ফেব্রুয়ারি

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অস্ত্র মামলায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৯ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৫৬ ১৩ জানুয়ারি ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অস্ত্র আইনে করা মামলায় মো. মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আদালত নতুন এদিন ধার্য করেন।

এদিন মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল মালেক মিয়া প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এদিন ধার্য করেন।

গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আগামী ১৯ জানুয়ারি এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আগামী ২৭ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। 

গত ১৩ ডিসেম্বর মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডলের আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গোল্ডেন মনিরের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিমের আদালত জামিন শুনানি জন্য ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। 

এদিন নয় দিনের রিমান্ড শেষে আসামি গোল্ডেন মনিরকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। এসময় গোল্ডেন মনিরের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

গত ৩ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মইনুল ইসলামের আদালত অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের পৃথক দুই মামলায় তিন দিন করে মোট ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে দুই মামলার রিমান্ড একইসঙ্গে চলবে বলে জানান বিচারক। এছাড়া ঢাকা মহানগর মো. মামুনুর রশিদের আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এর আগে গত ২২ নভেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মহানগর হাকিম আবু বক্কর ছিদ্দিকের আদালত অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এই রিমান্ড একইসঙ্গে কার্যকর করার নির্দেশ দেন আদালত। একই দিন ঢাকার মহানগর হাকিম মাসুদ উর রহমানের আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গোল্ডেন মনিরের আরো চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গত ২২ নভেম্বর সকালে রাজধানীর বাড্ডা থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে এই তিনটি মামলা দায়ের করে। 

গত ২০ নভেম্বর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে মনিরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন র‍্যাব। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ এবং প্রায় ১০টি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা যা প্রায় বাংলাদেশি টাকায় ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। তার বাসা থেকে আট কেজি স্বর্ণ ও নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গত ৩ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালের ১৩ মার্চ রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মনিরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করে।  

এর আগে সম্পদের হিসাব চেয়ে মনিরকে নোটিশ দেয় দুদক। কিন্তু মনির দুদকের সেই নোটিশ পেয়ে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তার সম্পদের হিসাব দুদকে জমা দেন। পরে হাইকোর্টে এ বিষয়ে একটি রিট মামলার কারণে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। 

এছাড়া ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে রাজউকের ৭০টি নথি নিজ কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আইনবহির্ভূতভাবে হেফাজতে রাখার দায়ে দায়ের করা একটি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া অনৈতিকভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করায় দুদক তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ