রাতারাতি উধাও ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’, নিঃস্ব কয়েকশ নারী-পুরুষ

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৯ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাতারাতি উধাও ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’, নিঃস্ব কয়েকশ নারী-পুরুষ

সাবজাল হোসেন, কালীগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০১ ১২ জানুয়ারি ২০২১  

‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর সাইনবোর্ড

‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর সাইনবোর্ড

দামি আসবাবে সাজানো অফিস আর স্মার্ট কথাবার্তার ফাঁদে ফেলে কয়েকশ নারী-পুরুষকে নিঃস্ব করে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে সদ্য গজিয়ে ওঠা ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি এনজিও। ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঞ্চয়ের নামে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা।

ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের নলডাঙ্গা রোডে। ওই এলাকার ফজলুর রহমান নামে একজনের বাসা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছিল এনজিওটি। স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদফতর বলছে তাদের কাছে এ এনজিওর কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর কর্মকর্তা সেজে কয়েকজন প্রতারক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রথমে সুসম্পর্ক তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে বড় অংকের ঋণের প্রলোভন দেখায়। শর্ত মোতাবেক প্রতি লাখ টাকা ঋণের জন্য ৭-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় জমা দিতে বলে। এতে রাজি হয়ে ঋণ নিতে আগ্রহীরা টাকা জমা দিতে থাকে। টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে হাওয়া হয়ে গেছে ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামের ওই ভুয়া এনজিও।

কালীগঞ্জ পৌরসভার খয়েরতলা গ্রামের শরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, কয়েকদিন আগে আমার দোকানে দুইজন লোক এসে এনজিও কর্মকর্তা পরিচয়ে এক লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা নেয়। শনিবার সকালে আমাকে ঋণ দেয়ার কথা ছিল। সময়মতো তাদের ঠিকানায় গিয়ে দেখি ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর সাইনবোর্ড ঝুলানো অফিসে তালা ঝুলছে।

শরিফুলের মত শত শত নারী-পুরুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ৫ লাখ টাকা ঋণের প্রলোভনে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় দিয়েছেন কোটচাঁদপুর রোডের মদিনা থাই অ্যান্ড এসএস ফার্নিচারের মালিক তরিকুল ইসলাম। ২৮ হাজার টাকা দিয়েছেন কালীগঞ্জ শহরের জুতা ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম। এছাড়া একই এলাকার বার্মিজ সু-এর মালিকের কাছ থেকে ৪০ হাজার, ড্যান্ডি সু-এর মালিকের কাছ থেকে ৩৫ হাজার, জেরিন এন্টারপ্রাইজ থেকে ৩৫ হাজার, রিফাত গার্মেন্টস থেকে ৩৫ হাজার টাকা, একই উপজেলার শিবনগরের পারভিন আক্তারের কাছ থেকে ৫৪ হাজার, কাশিপুরের রেশমা লস্করের কাছ থেকে ৫৪ হাজার, চাঁদবা গ্রামের মোস্তফার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে নামসর্বস্ব ওই এনজিও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঋণ নিতে ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর ঠিকানায় হাজির হয়েছেন চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ শত শত নারী-পুরুষ। এসে জানতে পারেন তিনদিন ধরে অফিসে তালা ঝুলছে। কর্মকর্তাদেরও কোনো হদিস নেই। তাদের পথে বসিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে প্রতারক চক্রটি।

বাড়ির মালিক ফজলুর রহমান জানান, চলতি মাসেই কালীগঞ্জ পৌরসভার গোরস্থান পাড়ায় তার বাড়িতে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা চুক্তিতে অফিস ভাড়া নেয়  ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’। এরপর এমআর সনদ নং- ০৯০০১৯০০৭৪ লেখা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কার্যক্রম শুরু করে।

বাড়িওয়ালা বলেন, তারা যে প্রতারক চক্র- তা বুঝতেই পারিনি। ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর শাখা ম্যানেজার রিয়াজুল ইসলাম দুটি মোবাইল ব্যবহার করতেন। ০১৮১৭-৪৬৯৪৪৩, ০১৭৯৩-৩১২০৪৩ নম্বর থেকে আমার সঙ্গে কথা বলতেন। মিজান নামে এনজিওটির এক কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রো-হ-২৫১৮৬৮ নম্বরপ্লেটের মোটরসাইকেল চালাতেন।

কালীগঞ্জ থানার এসআই জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামে এনজিওটির প্রতারণা সম্পর্কিত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য তাদের অফিসে গিয়ে অনেক ফাইলপত্র পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি ৩-৪ দিন আগেই তারা অফিসে তালা ঝুলিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কৌশিক খান জানান, ‘জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামে কোনো এনজিও রেজিস্ট্রেশনের তালিকায় নেই। এরা নিঃসন্দেহে প্রতারক চক্র।

কালীগঞ্জের ইউএনও সূবর্ণা রানী সাহা বলেন, আমার কাছে এখনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর