চট্টগ্রাম-আখাউড়া-সিলেট রুটে নির্বিঘ্নে ছুটবে ট্রেন

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৯ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রাম-আখাউড়া-সিলেট রুটে নির্বিঘ্নে ছুটবে ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৮ ১২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৬ ১২ জানুয়ারি ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম-আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট রেল রুটে থাকা ৩০০ এর অধিক ছোট-বড় সেতু ও অসংখ্য কালভার্ট সংস্কার কাজ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এতে এসব রুটে সর্বোচ্চ গতিতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে আন্তঃনগর, ডেমু ও লোকালসহ কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-আখাউড়া রুটে ১৫০ কিলোমিটার ট্রাক টেম্পিং করা হয়েছে। ৫২টি সেতুর অকেজো স্লিপার ও ফিটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এ রুটে সেতুর পাশাপাশি রেললাইনেও সংস্কার কাজ পুরোদমে চলছে।

সূত্র আরো জানায়, সিলেট-কুলাউড়া-আখাউড়া সেকশনে ১৭৮ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। দীর্ঘ এই পথে ছোট-বড় ২৫০টির বেশি সেতু রয়েছে। ৬০-৭০ বছর আগে সর্বনিম্ন ৩ ফুট থেকে ৩০০ ফুট দীর্ঘ এসব সেতু নির্মিত হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে সেতু ও কালভার্টের কাঠের স্লিপারের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। উঠে গিয়েছিল রেললাইনের ক্লিপ-হুক। সংস্কারের অভাবে ও রেলসেতুর কাঠের স্লিপারগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রেলপথ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছিল। কারণ এ রুটে প্রতিদিন ছয় জোড়া আন্তঃনগর, আটটি ডেমু ও লোকালসহ কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রেনও চলাচল করে থাকে। এরমধ্যে ২০১৯ সালের ২৪ জুন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর সতর্ক হয়ে যায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম-আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট রেল রুটে পুরনো ম্যাটেরিয়ালস খুলে নতুন করে ম্যাটেরিয়ালস লাগানোর জন্য আলাদা বরাদ্দ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে আখাউড়া-কুলাউড়া সেকশনে ৫২টি রেলসেতুর অকেজো স্লিপার ও ফিটিংস পরিবর্তন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কুলাউড়া-সিলেট সেকশনে ১৭টি সেতুর স্লিপার ও ফিটিংস নতুন করে লাগানো হয়েছে। আখাউড়া-কুলাউড়া সেকশনে মেরামত করা হয় ১৯টি রেলসেতু। এসব সেকশনে টেম্পিং মেশিন দ্বারা ১২৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রেললাইনের ম্যাকানাইজড করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১১ দশমিক ১০ কিলোমিটার রেললাইনের শ্যালো স্কিনিং করা হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০টি পিসি স্লিপার ও পি-ওয়ে ফিটিংস। স্প্রেডিং করা হয়েছে এক লাখ ঘনফুট ব্যালাস্ট।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০২১ সালে শেষের দিকে পূর্বাঞ্চলের সব রুট ও সেতুর কাজ শেষ হবে। সেক্ষেত্রে এসব রুটে নির্বিঘ্নে সর্বোচ্চ গতিতে ট্রেন ছুটতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সুবক্তগীন জানান, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সেতু ভেঙে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর ওই রুটসহ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের রেললাইন ও সেতুগুলো মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল। এতে দেড় বছরে রেলসেতুতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়া রেললাইনের সংস্কার কার্যক্রম শেষ হলে ট্রেন দুর্ঘটনা অনেকাংশ কমে যাবে বলে আশা করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এই প্রধান প্রকৌশলী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/এইচএন