পরপর মেয়ে জন্ম দেয়ায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১০ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পরপর মেয়ে জন্ম দেয়ায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৬ ১২ জানুয়ারি ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দুইবার মেয়ে হওয়ায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের ময়ূরেশ্বর থানা এলাকার বেজা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আগে ওই গৃহবধূ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে তার ওপর মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেন।

বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানার বাসিন্দা সমাপ্তি সাধুর সঙ্গে ১১ বছর আগে ময়ূরেশ্বর থানা বেজা গ্রামের শিব শংকর প্রামাণিক নামে একজন স্কুল শিক্ষকের বিয়ে হয়। নিহত ওই গৃহবধূর প্রথম মেয়ের বয়স ৯ বছর এবং দ্বিতীয় মেয়ের বয়স তিন বছর। গৃহবধূ মৃত্যুকালীন ভিডিও জবানবন্দিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের কথা জানিয়েছেন। দ্বিতীয় মেয়ে হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন ব্যাপক অত্যাচার শুরু করে বলে দাবি করেন ওই গৃহবধূ। ছেলে সন্তান না হওয়ায় নিয়মিত মারধর করা হতো তাকে।

এর আগে, ২৬ ডিসেম্বর ওই গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে সিউড়ি পরে বর্ধমানের একটি নার্সিং হোমে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ১ সপ্তাহ পর তার মৃত্যু হয়। 

পরে ৬ জানুয়ারি ময়ূরেশ্বর থানায় গৃহবধূর দাদা পল্লব কুমার সাধু লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদ এবং ননদের স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃত গৃহবধূর দাদা পল্লব কুমার সাধু বলেন, বোনের পরপর দুটি মেয়ে হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত। এরইমধ্যে একদিন বোনের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন আমার বোন তার মৃত্যুকালীন ভিডিও জবানবন্দিতে তার ওপর অত্যাচার হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

ওই গৃহবধূ মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস