হতদরিদ্র কৃষকের সন্তান শিহাব বাঁচতে চায়

ঢাকা, শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১০ ১৪২৭,   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

হতদরিদ্র কৃষকের সন্তান শিহাব বাঁচতে চায়

মাদারীপুর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০১ ১২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:০২ ১২ জানুয়ারি ২০২১

শিহাবউদ্দিনের দুইটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে।

শিহাবউদ্দিনের দুইটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে।

হতদরিদ্র এক প্রান্তিক কৃষকের ছেলে শিহাবউদ্দিনের দুইটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। কিশোর শিহাবের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউপির বাজিতপুর গ্রামে। 

বাবা কবির হাওলাদার একজন দিন মজুর ও প্রান্তিক চাষি এবং মা লিলি বেগম গৃহিণী। কবির হাওলাদারের তিন ছেলের মধ্যে শিহাব ছোট। অন্যের সহায়তায় সে লেখাপড়া করে ছারসিনা দারুল সুন্নাত জামেয়া নেছারিয়া দ্বীনিয়া মাদরাসায়। 

অভাবের কারণে কবির হাওলাদার তার অপর দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাতে পারেনি। তারা দুইজনই ঢাকায় দর্জীর দোকানে দিন মজুরের কাজ করে। শিহাবের বাবার কোনো জমিজমা নেই। দুঃখ-কষ্টে চলে তার অভাবি সংসার। একবেলা খাবার জোটে তো অন্য বেলা কাটাতে হয় অর্ধাহার বা অনাহারে। তাই শিহাবের চিকিৎসায় সাহায্যের অনুরোধ করেছেন তার পরিবার। 

২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। তাই লেখাপড়াও বন্ধ থাকায় চলে আসে নিজ বাড়িতে। বাড়িতে এসে গত বছর আগস্ট মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে শিহাব। তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা শিহাবকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন। 

স্থানীয় কিছু মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় তাকে নিয়ে ভর্তি করা হয় ঢাকার শের-ই বাংলা নগর জাতীয় কিডনি রোগ নিরাময় হাসপাতালে। সেখানকার বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন শিহাবের দুইটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। 

খবর শুনে তার দরিদ্র বাবা কবির হাওলাদার অসহায় হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা ওষুধপত্র ও হেপা-বি-২ ইনজেকশন পুস করানোর পাশাপশি ডায়ালাইসিসের কথা জানিয়ে দেন। তবে তার কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি বলে জানিয়ে দিয়েছেন কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মিজানুর রহমান। 

এ অবস্থায় শিহাবকে বাঁচাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। যা দিন মজুর বাবা কবির হাওলাদারের পক্ষে জোগার করা মোটেই সম্ভব নয়। এরই মধ্যে অর্থের অভাবে শিহাবের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। ফলে তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিহাব এখন প্রায় মৃত্যু সজ্জায়। 

চোখের সামনে সন্তানের এ অবস্থা দেখে মা লিলি বেগমের চোখের পানি থামছে না। সন্তানের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দেশের দানশীল ব্যক্তির কাছে সাহায্যের হাত পেতেছেন শিহাবের অসহায় বাবা-মা। 

সমাজের বিত্তবানদের একটু সাহায্য-সহানুভূতিই পারে মৃত্যু পথযাত্রী শিশু শিহাবকে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে