হাসপাতালই ঠিকানা, কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন বৃদ্ধা

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

হাসপাতালই ঠিকানা, কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন বৃদ্ধা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০১ ১২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ০৪:১০ ১৩ জানুয়ারি ২০২১

পারভীন আক্তার

পারভীন আক্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় নারীদের ওয়ার্ডের মেঝেতে কম্বল গায়ে গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি। 

পারভীন আক্তার নামের ওই বৃদ্ধার বয়স সত্তরের বেশি। আপন বলতে এই পৃথিবীতে তার কেউ নেই। অনেক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একা। বয়সের ভারে যেসব সমস্যা থাকে সেগুলোর লক্ষণ আছে শরীরে। তবে তিনি রোগী নন। তবুও হাসপাতালে ঠাঁই নিয়েছেন থাকার জায়গা আর ভাতের নিশ্চয়তায়।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই বৃদ্ধা তিনমাস হাসপাতালে ছিলেন। তবে এক সময় হাসপাতাল ছেড়ে ৬ জানুয়ারি আবার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। রোগীর চাপ থাকায় মেঝেতে রাখা হয়েছে বৃদ্ধা পারভীন আক্তারকে। তবে অন্যান্য রোগীদের মতোই তিন বেলা নিয়মিত খাবার দেয়া হচ্ছে তাকে।

অস্পষ্ট ভাষায় পারভীন আক্তার জানান, সহায় সম্পদ কিংবা স্বজন কেউ নেই। আখাউড়ার খড়মপুর এলাকায় থাকতেন। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে সুযোগ মতো কাজ করতেন। এখন আর পারেন না। শক্তিতে কুলায় না। তাই কয়েক মাস আগে হাসপাতালে চলে আসেন। কিছুদিনের জন্য বাইরে গিয়ে আবার এসেছেন। এখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে বলে থেকে যেতে চান।

হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রিজিয়া আক্তার বলেন, ওই নারী কোমরে ব্যথার জন্য দুইটা ওষুধ খায়। তবে ওনার তেমন কোনো সমস্যা নেই। থাকা আর খাওয়ার নিশ্চয়তার জন্য তিনি এর আগেও হাসপাতালে কয়েক মাস থেকে গেছেন।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শ্যামল কুমার ভৌমিক বলেন, ওই নারীর তেমন কোনো সমস্যা নেই। তিনি মূলত থাকা খাওয়ার জন্যই আগে কয়েক মাস টানা হাসপাতালে ছিলেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উদ্বাস্তু হিসেবে কাউকে হাসপাতালে রাখার নিয়ম নেই। তবে ওই নারী রোগী হিসেবেই ভর্তি আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুর রহমান বলেন, রেলওয়ে জংশন হওয়ায় ও মাজার শরীফ থাকায় এখানে মাঝে মাঝে এ ধরণের লোক আসে যাদের পরিচয় পাওয়া যায় না। ওই নারীরও পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনি তেমন অসুস্থ নন। মূলত থাকা খাওয়া নিশ্চিত করতেই তিনি এখানে আছেন। আমাদের পক্ষ থেকে ওই নারীকে সব ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/জেডএম