গাছে বেঁধে রাখা হলো মাকে, দুধ না পেয়ে কাঁদছে শিশু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭,   ১২ রজব ১৪৪২

গাছে বেঁধে রাখা হলো মাকে, দুধ না পেয়ে কাঁদছে শিশু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪২ ১১ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২১:১৭ ১১ জানুয়ারি ২০২১

গাছের সঙ্গে বাঁধা নারী, কাঁদছে শিশু

গাছের সঙ্গে বাঁধা নারী, কাঁদছে শিশু

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চোর সন্দেহে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের মালিরচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার রাতে পাঁচজনের নামে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার আট বছরের ছেলে মালিরচালা গ্রামের মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার পরিবারের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে প্রায়ই খেলাধুলা করতো। ঘটনার ১৫ দিন আগে মনিরুলের বাড়ি থেকে ঘুড়ি বানাতে পত্রিকা নিয়ে আসে ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে। পরে মনিরুলের সন্তানদের সঙ্গেই সে ঘুড়ি উড়ায়।

আরো পড়ুন: স্কুলে ঢুকতে দেননি সিকিউরিটি, ১৭ বছর পর বাবা-মেয়ের দেখা

হঠাৎ মনিরুলের বাড়ি থেকে স্বর্ণ-টাকাসহ মূল্যবান কাগজপত্র চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনার জের ধরে ৩ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর ছেলেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে মারধর করে মনিরুল। একই সঙ্গে মালামাল চুরি করে তার মায়ের কাছে জমা দেয়ার স্বীকারোক্তি আদায় করেন।

৯ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন মনিরুলের দুই বোন খুকি ও সুমি আক্তার। এছাড়া তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান তারা। পরে তাকে বাড়ির পাশের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এ সময় মনিরুল, তার দুই ছেলে ও দুই বোন মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আরো পড়ুন: আনুশকাহ’র বাবার আফসোস: মেয়ের প্রথম কলটা না ধরাই ছিল বড় ভুল

মামলার আসামি মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ওই গৃহবধূর ছেলে আমার ছোট বোনের স্বর্ণ চুরি করে। সে চুরি করা স্বর্ণ তার মায়ের কাছে জমা দেয়। বারবার চাইলেও তারা দেয়নি। তাই ওই গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন আমার ছোট বোন সুমি।

প্রত্যক্ষদর্শী মহানন্দ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ওই গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় তার ৬ মাসের সন্তানকে মায়ের বুকের দুধও খেতে দেয়নি। পরে দুই বন্ধুর সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি আমি। বর্তমানে তিনি আমার বাড়িতে আছেন।

আরো পড়ুন: ফরেনসিক রিপোর্ট বলে দেবে দিহানের তিন বন্ধুর ভাগ্য

ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর