ঘর বরাদ্দ পেয়ে খুশি রোকেয়া বেগম 

ঢাকা, শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৪ রজব ১৪৪২

ঘর বরাদ্দ পেয়ে খুশি রোকেয়া বেগম 

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪০ ১১ জানুয়ারি ২০২১  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

আমরা নিতান্তই অসহায় ভূমিহীন গরিব মানুষ। সামান্য আয়ের সংসার। ভাঙাচুরা ঘরে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম দিনানিপাত করছি। শীতের সময় ঘর ভাঙাচুরা থাকায় রাতে খুবই শীত করে। তাছাড়া বৃষ্টির সময় সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ছিদ্র দিয়ে ঘরে বৃষ্টি পড়ায় খুবই কষ্ট করতে হয়। আমরা কী কখনো আয় রোজগার করে বাড়িঘর করতে পারতাম। তাছাড়া কোনোদিন স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটা পাকা ঘর দেবেন। প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলে সে কথা রাখে। কথা অনুযায়ী তিনি গরিবদের দিকে তাকিয়েছেন। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুক। তিনি যেন অনেক দিন বেঁচে থাকেন। এভাবেই কথাগুলো বলেন উপজেলার বনগজ গ্রামের কাদির হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সেমিপাকা ঘর বরাদ্দ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক নিয়ে রোকেয়া বেগম এভাবেই তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। 

রোকেয়ার  স্বামী ভূমিহীন মো. কাদির হোসেন ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র চটপটি বিক্রেতা।  সংসারে তার ছোট দুই ছেলে রয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরেই বনগজ এলাকায় একটি বাড়িতে কোনো রকমে দিন পার করছেন। একই গ্রামের ভূমিহীন মন মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম, মোগড়া ইউপির নুরু মিয়াসহ বেশ কয়েকজন গৃহহীন অসহায় পরিবার ঘর বরাদ্দ পেয়ে সবাই অনেক খুশি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি ও গৃহহীন ৬৫১টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।  এরই মধ্যে মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চর নারায়ণপুর মৌজায় সরকারি খাস জমিতে ৪৫টি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘরের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য থাকছে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এসব ঘর।  

চৌচালা বিশিষ্ট  রঙিন টিনের ঘর, প্লেন সিটের জানালা, ও দরজা, ইটের দেয়াল ও পাকা মেঝে রয়েছে। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি আধাপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইউএনও মোহাম্মদ নুরে-এ আলম সার্বিকভাবে এসব ঘরের নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধান করছেন। পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম ভূইয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তীসহ সহ সংশ্লিষ্টরা দফায় দফায় গৃহ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনসহ নিয়মিত খোঁজ খবর  রাখছেন।

এদিকে দিনের বেলা ঘরনির্মাণ কাজ চলা অবস্থায় বরাদ্দ পাওয়া ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা এসে তীর্থের কাকের মতো বসে থাকেন প্রকল্প এলাকায়। তাদের চোখেমুখে একটাই স্বপ্ন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার নতুন ঘরের মালিক হতে যাচ্ছেন। শুরু করতে যাচ্ছেন শান্তিতে বসবাসের নতুন জীবন। 

ইউএনও মোহাম্মদ নুরে-এ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও গৃহনির্মাণ নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি খাস জমিতে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। প্রতিটি ঘরের নির্মাণকাজের গুণগতমান যাতে বজায় থাকে এরজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি। নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে গৃহ নির্মাণ কাজ শেষ হবে। 

ইউএনও আরো বলেন, উপকারভোগীদের দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি আধাপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সবগুলো বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায়  করা হচ্ছে। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেটসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে এসব বাড়িতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ