সালিশে আসলেন হেলিকপ্টারে চড়ে, জনরোষে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সালিশে আসলেন হেলিকপ্টারে চড়ে, জনরোষে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৭ ২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৮:৩৪ ৩ জানুয়ারি ২০২১

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে সালিশ করতে এসে জনরোষে পড়েন আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা। শনিবার দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন: ভিক্ষা করাতে এনে শিশুকে ম্যানহোলে ফেলে দিলো কিশোর

তাদের নিয়ে আসা পাঁচটি গাড়ির সামনে বিশাল ব্যানারে কথিত অনলাইন টিভি চ্যানেলের নাম লেখা ছিল। একটি গাড়ির সামনে লেখা ছিল ‘সাংবাদিক টিম’, আরেকটিতে ছিল জাতিসংঘের মনোগ্রাম-সংবলিত ব্যানার। এসব গাড়ির প্রায় ৩০ জন যাত্রী ‘দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকা ও আসকের পরিচয়পত্র বহন করছিল।

হেলিকপ্টারে উড়ে আসা দলনেতা লোকমান হোসেন সাঈদী নিজেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার অধীন আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশনের ঢাকা বিভাগীয় প্রধান বলে পরিচয় দেন।

পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে হেলিকপ্টারে উড়ে আসা ও গাড়ির বিশাল বহর নিয়ে শোডাউনের খরচ কে দিয়েছে, এমন প্রশ্ন করা হলে লোকমান হোসেন কখনো বলেন তিনি নিজে খরচ বহন করছেন, আবার পরক্ষণেই জানান, সংগঠনের সদস্যরা বহন করেছেন।

আর কোনো জেলায় অতীতে এভাবে শোডাউন করে গিয়েছেন কি না বা এভাবে স্বল্প সময়ে পারিবারিক সমস্যা নিষ্পত্তির কোনো উদাহরণ আছে কি, জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তার তিন ছেলের মতবিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এর কিছু দিন পর আব্দুল লতিফের ছেলে মোস্তফা তাজওয়ার আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে তার বাবার বিরুদ্ধে একটা লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন সহায়তা কেন্দ্রের সহকারী বিভাগীয় প্রধান (ঢাকা জোন) মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ ২৮ ডিসেম্বর আব্দুল লতিফের কাছে একটি সালিশ বৈঠকের জন্য নোটিশ দেন।

আরো পড়ুন: বিয়ের আড়াই মাসেই মা হলেন নববধূ, হাসপাতালেই তালাক দিলেন স্বামী

এ বিষয়ে আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শহীদুল ইসলাম মুক্তার জানান, নোটিশ অনুযায়ী বাপ-ছেলের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে সালিশের জন্য শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে ঘটনাস্থলে আসেন আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় প্রধান মো. লোকমান হোসেন, তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. সোহেল রহমান এবং সহকারী বিভাগীয় প্রধান মাসুম বিল্লাহ। হেলিকপ্টার থেকে বেরিয়ে আসলে তারা স্থানীয় লোকজনদের তোপের মুখে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পর আইন সহায়তা কেন্দ্রের আরো ২০-২৫ জন সদস্য ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে (মাইক্রোবাস) করে আন্দুলবাড়িয়া বাজারে আসেন। তারাও বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হন।

আরো পড়ুন: ১৫ ফুটের শিকলে কেটে গেল ১২ বছর

ইউপি চেয়ারম্যান জানান, একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন আইন সহায়তা কেন্দ্রের সদস্যদেরকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় জীবননগর থানা পুলিশের সদস্যরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে আইন সহায়তা কেন্দ্রের তিন কর্মকর্তা পুলিশের সহায়তা নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে চলে যান। পরে আইন সহায়তা কেন্দ্রের বাকি সদস্যরা মাইক্রোবাসযোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, আমার ছেলেদের সঙ্গে সৃষ্ট সমস্যা স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে আমরা নিজেরাই সমাধানে করে নিয়েছি। এরপরও আমার ছেলের প্ররোচনায় ঢাকা থেকে লোকজন আসায় গ্রামবাসী কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। যদিও পুলিশ সদস্যদের কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

আবদুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে মোস্তফা তাজওয়ার এ বিষয়ে বলেন, তার বাবা ২১ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তাদের নানাভাবে বঞ্চিত করে আসছেন। যে কারণে তিনি সহায়তার জন্য আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশনে’ দরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে থানায় বসে সমাধান হয়ে যায়। বিশাল বহরের খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি মোস্তফা তাজওয়ার।

আরো পড়ুন: মারজুক রাসেলের বিয়ের ছবি ভাইরাল

জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সামান্য একটা বিষয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা থেকে আইন সহায়তা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের এখানে আসা ঠিক হয়নি। পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় সেটা হয়নি। আমাদের সদস্যরা সহযোগিতায় আসকের কর্মকর্তারা ঢাকাতে ফিরে গেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ