ও বাড়ি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে

ঢাকা, রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১১ ১৪২৭,   ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ও বাড়ি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৪ ৪ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ২২:১৪ ৪ ডিসেম্বর ২০২০

স্বজনদের আহাজারি

স্বজনদের আহাজারি

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বারবার যেতে নিষেধ করেন বৃদ্ধ বাবা। কিন্তু বাবার শত বারণেও জোর করেই বের হলেন, আর বললেন বাবা খুব তাড়াতাড়ি ফিরব। বাড়ি ফিরেছে ঠিকই তবে লাশ হয়ে। বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ছয়জনসহ সাতজন নিহত হন।

শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের মূলকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামের হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার, তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার, পুত্রবধূ ববিতা বাদ্যকার, নাতনি রাধে রানী, ভাইয়ের স্ত্রী খুশী রানী ও ভাতিজা রায় প্রকাশ এবং অটোচালক জামাল শেখ।

ছেলে হরেকৃষ্ণ বাদ্যকরের শোকে বৃদ্ধ বাবা অনিল বাধ্যকারের চোখের পানি যেন ফুরিয়ে গেছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু বলছেন, ‘আমি ছেলেটাকে বারবার বললাম আজ যেও না, ও আমার কথা না শুনেই চলে গেল। বলল বাবা খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। ও বাড়ি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে।’ এসব কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অনিল বাধ্যকার।

স্বামী, ছেলে ও পুত্রবধূর মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না হরেকৃষ্ণ বাদ্যকারের স্ত্রী আরতি বাদ্যকার। মৃত্যুর খবর শুনেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। জ্ঞান ফেরার পর মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে বলছেন, ‘হায় ভগবান! কী পাপ করেছিলাম, তুমি আমার কোল খালি করে নিয়ে গেলে।

দৌলতপুর থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, দুপুরে দৌলতপুর থেকে জামালের অটোরিকশা ভাড়া করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার। উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের মূলকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত থেকে আসা একটি বাস তাদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর