প্রতিবন্ধিতা জয় করে ফয়সাল আজ আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর

ঢাকা, বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৬ ১৪২৭,   ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রতিবন্ধিতা জয় করে ফয়সাল আজ আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৭ ৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:১৯ ৩ ডিসেম্বর ২০২০

প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও থেমে থাকেননি ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক ফয়সাল রহমান জসিম

প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও থেমে থাকেননি ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক ফয়সাল রহমান জসিম

প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও থেমে থাকেননি ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক ফয়সাল রহমান জসিম। ভালো আচরণ ও সুন্দর পাঠদানের মাধ্যমে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয়। শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভরসাস্থল এখন তিনিই।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে রয়েছে তার দক্ষতা। পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার যথেষ্ট সুনাম। কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়নে। প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিদ্যালয়। প্রতিবন্ধকতা জয় করে তিনি আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর। নিজেকে কখনোই প্রতিবন্ধী মনে করেন না গুণী এ শিক্ষক।

ফয়সাল রহমান জসিমের সঙ্গে আলাপকালে জানান, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই পা প্যারালাইসড হয়ে যায়। এ শরীর নিয়ে অদম্য ফয়সাল পড়ালেখা চালিয়ে স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের জনসভায় গিয়ে গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন তিনি। সুস্থ হওয়ার পরে ২০০৭ সালে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পড়ালেখায় মনোযোগী করে তোলায় শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। কর্মদক্ষতা দিয়ে জয় করেন নিজের প্রতিবন্ধকতাকে।

২০১৪-১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধিতার ওপর পিএইচডি করেন। গড়ে তুলেছেন প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিদ্যালয়ে। যার নাম প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের জন্য একটি সংস্থাও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশ বিদেশে নিয়েছেন প্রশিক্ষণ। বর্তমানে তিনি প্রতিবন্ধীদের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে কাজ
করেন।

প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষা জীবন থেকে এখন পর্যন্ত নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েও কখনো থেকে যাননি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষকরাও তাকে সব কাজে উৎসাহিত করেন। হুইল চেয়ারে বাসা থেকে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ায়ও সহকর্মীরা সহযোগিতা করছেন। শিক্ষার্থীরা তার প্রসংশায় পঞ্চমুখ।

প্রধান শিক্ষক মারুফা বেগম জানান, প্রতিবন্ধী হয়েও ফয়সাল রহমান জসিম শিক্ষকতায় সুনাম অর্জন করেছেন, শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভরসার স্থল তিনি। তার সফলতা কামনা করেছেন ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ঝালকাঠির ডিসি মো. জোহর আলী জানান, শিক্ষক সবসময় শিক্ষার্থীদের আদর্শ, তাই শিক্ষকতা পেশায় নীতিবান মানুষের প্রয়োজন। ফয়সাল রহমান জসিম তেমনই একজন মানুষ গড়ার কারিগর।

ফয়সাল রহমান জসিম জানান, শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ফয়সাল রহমান জসিম সমাজের বিশেষ শিশুদের জন্য কারিগরি একটি বিদ্যালয় স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

জেলা সমাজ সেবা অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠিতে বিভিন্ন বয়সের প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ রয়েছেন ১৪ হাজার ৮৭৫জন। তাদের মধ্যে ভাতা পাচ্ছেন ১১হাজার ৪০৬ জন।

জেলা সমাজ সেবা অধিদফতেরের উপ-পরিচালক আ. রশিদ খান জানান, ঝালকাঠিতে বিভিন্ন বয়সী প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ রয়েছেন ১৪ হাজার ৮৭৫জন। তাদের মধ্যে ভাতা পাচ্ছেন ১১ হাজার ৪০৬ জন। যেসব পরিবার দুস্থ, অসহায় সেসব পরিবারের প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদানের আওতায় নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ