বৃদ্ধা শাহাবানু পেল মাথা গোঁজার ঠাঁই

ঢাকা, রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১০ ১৪২৭,   ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বৃদ্ধা শাহাবানু পেল মাথা গোঁজার ঠাঁই

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮ ২ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৯ ২ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউপির পুটিয়াখালি গ্রামের অসহায় পঙ্গু বিধবা সাহাবানুর পাশে দাঁড়িয়েছে নাভানা গ্রুপ।

নাভানা গ্রুপের একটি টিম বুধবার সকালে সহায়তা নিয়ে তার বাড়িতে গেলে তিনি বলেন ‘এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াত কালে একটু শান্তি পাইছি। এখন দুইডা টাহা পাইলে আর একটু ভাল থাকমু’ । 

এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মরিনউজ্জামান, ইউএনও মো. সোহাগ হাওলাদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু, নাভানা গ্রুপের এজিএম আফজাল ইবনি নাজিম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুল হক কামালসহ আনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হামাগুড়ি দিয়ে চলেন সাহাবানু।  

অপরদিকে সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশের পরে স্থানীয় প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার একটি ঘর তুলে দেন। ঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। 

এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা তাকে খাদ্য সহায়তা করে আসছেন। 

জানা গেছে, ২৫ বছর আগে সাহাবানু ও তার একমাত্র ছেলে শাহজাহানকে রেখে স্বামী ইয়াছিন মারা যান। মারা যাওয়ার সময় বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই রেখে যায়নি তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সাহাবানু নিজে না খেয়েও একমাত্র ছেলেকে বড় করেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করার সময় হোঁচট খেয়ে কোমরে আঘাত পান। আর কোমর সোজা করতে পারেননি। ছেলে বড় হয়ে মাকে বাড়িতে ফেলে রেখে বিয়ে করে আলাদা বাড়িতে থাকেন। মায়ের কোনো খোঁজ খবর নেয়নি। 

অনেক দুঃখে কষ্টে চলে সাহাবানুর সংসার

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হামাগুড়ি দিয়ে চলেন সাহাবানু। অনেক দুঃখে কষ্টে চলে সাহাবানুর সংসার। বর্তমানে সাহাবানুর বয়স ৭০ বছর। স্থানীয় সাংবাদিক বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। 

নাভানা গ্রুপের এজিএম আফজাল ইবনি নাজিম জানান, মিডিয়ায় প্রকাশিত সাহাবানুর সংবাদ দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। এখন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাহাবানুর সব দায়িত্ব নাভানা গ্রুপের। সাহাবানুর জন্য ২৫ হাজার টাকা স্থানীয় ইউএনওর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাহাবানুর যখন যা প্রয়োজন হবে সব কিছু স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে