রহস্যময় ৮ মিনিটেই শেষ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবন

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৪ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রহস্যময় ৮ মিনিটেই শেষ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবন

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৩ ১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ০৯:১৫ ২ ডিসেম্বর ২০২০

জান্নাতুল হাসিন

জান্নাতুল হাসিন

বেশ ছটফটে স্বভাবের ছিলেন জান্নাতুল হাসিন। লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ব্যাংকে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছিলেন। কিন্তু মাত্র ৮ মিনিটে কী ঘটল ফুরফুরে মেজাজের এ মেয়েটির জীবনে, যে সময়ের মধ্যে তাকে লাশ হতে হলো। তবে এ রহস্য এখনো জানা যায়নি।

আরো পড়ুন: সকালে উঠানে খেলছিল ছেলে, দুপুরে হলো লাশ

নিহত জান্নাতুল হাসিনের বাড়ি কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পশ্চিম পাড়ায়। তার বাবার নাম ইদ্রিস মেহেদী।

ঢাকায় বোনের বাসায় থাকতেন জান্নাতুল হাসিন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) থেকে স্নাতক শেষে মিরপুরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছিলেন। সোমবার রাতে তিনি কুমিল্লায় বাড়িতে যান। ঘুম থেকে উঠে দুপুর পর্যন্ত তিনি বাসায় ছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে দোকান থেকে শ্যাম্পু কেনার কথা বলে তিনি বাইরে বের হন। একটু পরেই জানা যায়, পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

এ ভবনের ছাদের নিচে পড়ে ছিল জান্নাতুল হাসিনের লাশ

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলায় সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের পেছনে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসের পাশে এ ঘটনা ঘটে। 

বাবা ইদ্রিস মেহেদী পরিবার নিয়ে নগরীর ঝাউতোলায় থাকেন। তার তিন মেয়ে এবং এক ছেলে। নিহত জান্নাতুল হাসিন মেজো মেয়ে। তিনি ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

আরো পড়ুন: এক জোড়া নূপুরে তছনছ ৫ সংসার

নিহতের বাবা ইদ্রিস মেহেদী বলেন, বড় মেয়ে জান্নাতুল এবং স্বামী দু’জনই চাকরিজীবী। হাসিন তাদের সঙ্গেই থাকতো। মিরপুর-৬ এ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একটি শাখায় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতো সে।   

তিনি আরো বলেন, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লার নিজ বাসায় আসে জান্নাতুল। কোনো কারণে তার মন খারাপ ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে জানতে পারি, আমার মেয়ে হাসিন নয়তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেছে। তবে হাসিন আত্মহত্যা করেছিল নাকি অন্য কিছু ঘটছে তা এখনো জানতে পারিনি।

জান্নাতুল হাসিন

১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর কাদের মনি বলেন, আমি অফিসে বসেছিলাম। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ পেয়ে বাইরে যাই। বের হতেই গোল্ড সিলভার হোমস ভবনের নিচে হাসিনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পাই।

গোল্ড সিলভার হোমস ভবনের নিরাপত্তারক্ষী হাবিবুর রহমান বলেন, বাসায় ঢোকার সময় কার কাছে যাবে জানতে চাইলে জান্নাতুল জানান, ছয়তলায় রাফি আঙ্কেলের মেয়ে সোহানার কাছে যাবেন। ৮-১০ মিনিট পরই দেখি তার লাশ নিচে পড়ে আছে।

আরো পড়ুন: আত্মহত্যার আগে অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী চিরকুটে লিখল ‘আমার পেটে জীবনের বাচ্চা’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হক বলেন, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি-না তা খতিয়ে দেখছি। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/আরএম/এমকেএ