খুচরা টাকা কুড়াতেই মুহূর্তে উধাও সাড়ে ৪ লাখ

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৪ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

খুচরা টাকা কুড়াতেই মুহূর্তে উধাও সাড়ে ৪ লাখ

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১১ ২৯ নভেম্বর ২০২০  

সোনালী ব্যাংক জামালপুর শাখা

সোনালী ব্যাংক জামালপুর শাখা

টাকাভর্তি ব্যাগ হাতে রাখতে অসুবিধা মনে করে রাখেন ব্যাংকের কাউন্টারের ডেস্কের ওপর। এ সময় পায়ের কাছে কিছু খুচরা টাকা পড়ে থাকতে দেখে তুলতে যান। কিন্তু সেই টাকা কুড়াতে গিয়ে মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেল ব্যাগভর্তি টাকা।

এমনই অভিনব কায়দায় সোনালী ব্যাংক জামালপুর শাখা থেকে বারিন্দ্র কুমার নাগ নামে এক গ্রাহকের চার লাখ ৪০ হাজার ৩২৫ টাকা চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা।

রোববার দুপুরের এ ঘটনায় সবাই হতবাক হয়েছেন। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে চুরি যাওয়া টাকাগুলো উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ। এ জন্য ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তারা।

বারিন্দ্র কুমার নাগ জামালপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের স্ট্যাম্প ভেন্ডার হিসেবে কর্মরত। তিনি রোববার দুপুরে চার লাখ ৪০ হাজার ৩২৫ টাকার পে-অর্ডার করার জন্য তার কর্মচারী সোহাগকে সোনালী ব্যাংক জামালপুর শাখায় পাঠান। সোহাগ জামালপুর শহরের পাথালিয়া এলাকার মো. আকাশের ছেলে। তখন ব্যাংকের নিচতলায় বেশ ভিড় ছিল। বেলা একটার দিকে সোহাগ টাকাগুলো নিয়ে ব্যাংকের নিচতলায় ৬ নম্বর কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। টাকা হাতে রাখতে অসুবিধা মনে করে পুরো টাকা কাউন্টারের ভেতরে ডেস্কের ওপর রেখে অপেক্ষা করছিলেন সোহাগ। এ সময় তার পায়ের কাছে কিছু টাকা পড়ে থাকতে দেখে তুলতে শুরু করেন। মেঝেতে পড়ে থাকা টাকাগুলো তুলেই দেখতে পান কাউন্টারের ডেস্কে রাখা তার পে-অর্ডারের টাকাগুলো নেই। সঙ্গে সঙ্গে সোহাগ বিষয়টি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জানান।

সোহাগ বলেন, কাউন্টারের সামনে লাইনে অনেক ভিড় ছিল। আমি ছিলাম সবার সামনে। টাকা জমা দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় আমার পায়ের কাছে কিছু খুচরা টাকা পড়ে থাকতে দেখে সেগুলো তুলতে শুরু করি। টাকা তুলে দেখি কাউন্টারের ডেস্কের ভেতরে রাখা আমার টাকাগুলো নেই।

সোনালী ব্যাংক জামালপুর শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উত্তম কুমার কর্মকার বলেন, ব্যাংকে পে-অর্ডার করতে আসা সোহাগ নামের এক যুবক আমাকে মৌখিকভাবে জানান, কাউন্টারের সামনে ডেস্কে রাখা তার চার লাখ ৪০ হাজার ৩২৫ টাকা খোয়া গেছে। তাকে থানায় অভিযোগ করতে বলেছি। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে। ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজও নিয়ে গেছেন ওসি।

জামালপুর সদর থানার ওসি মো. রেজাউল ইসলাম খান বলেন, পে-অর্ডার করতে আসা যুবক সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার জন্য ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে টাকার মালিকপক্ষ এখনো থানায় অভিযোগ করেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর