কুষ্টিয়ায় কিশোর-কিশোরী গ্যাংয়ের ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল ফাঁদ

ঢাকা, রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১১ ১৪২৭,   ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কুষ্টিয়ায় কিশোর-কিশোরী গ্যাংয়ের ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল ফাঁদ

রাজু আহমেদ, কুষ্টিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৪ ২৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৯ ৩০ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রথমে ফেসবুকে বন্ধুত্ব, তারপর লোভনীয় প্রস্তাব এবং নানা প্রলোভনে কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকজন চাকরিজীবীকে ডেকে নিয়ে ফাঁদে ফেলেছে কিশোর-কিশোরীর গ্যাং। তাদের জিম্মিদশা থেকে বাঁচতে অনেকে কুষ্টিয়া ছেড়েছেন, অনেককে দিতে হয়েছে মোটা টাকা। লজ্জা ও সম্মানের ভয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা কাউকে কিছু জানাননি। শহরের ব্যবসায়ী ও উঠতি বয়সীদের টার্গেট করে কিশোরীদের দিয়ে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে এই কিশোর গ্যাং। 

সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় কিশোর গ্যাং নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলে তাদের অপকর্ম নিয়ে অনেকেই তথ্য দিয়েছেন। কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পরিচয় গোপন রেখে কথা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় কিশোর বয়সের ছেলেমেয়েরা যেভাবে অসামাজিক নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তা অবিশ্বাস্য ।

পাড়া-মহল্লায় নিজের প্রভাব দেখাতে দামি স্মার্টফোন মোটরসাইকেল কেনার টাকা এবং বন্ধু হলে নিজেকে ফ্যামাস দেখানোর জন্য এসব কিশোররা দুঃসাহসী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে তারা সহযোগীদের নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় তৈরি করে গ্যাং। এসব গ্যাং এর সদস্য আছে কিশোরীরাও। তাদেরকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের শারীরিক সম্পর্ক করার লোভ দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।

কুষ্টিয়া শহরের নিশার মোড়ের সজীব ওই এলাকার বিগ বস নামে খ্যাত। ২২ বছরের এই কিশোরের রয়েছে প্রশিক্ষিত বাহিনী।

শহরতলীর মোল্লাতেঘরিয়ায় রয়েছে অভি, উপজেলা মোড়ে রবিন ফায়েস ও চৌড়হাস ফুলতলা মোড় ও ঈদগাহ পাড়ার দুজন নবম শ্রেণিতে পড়া কিশোরী রয়েছে নেতৃত্বে। হাউজিং এর অমিত হাসান, উপজেলা মোড়ের জাকির হোসেন, চৌড়হাস মোড় মাসু বাবু ও আড়ুয়া পাড়ার কৌশিক এর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছে।

কিশোর গ্যাং এর এক সদস্য জানায়, তারা অনেক উপর মহলের আশীর্বাদ নিয়ে গ্যাং পরিচালনা করেন। গ্রুপে যোগ দিতে শহরের অনেকে তাদের কাছে ধরনা দেয়। সবাইকে নেয়া হয় না । যারা এসব কাজে পারদর্শী, রাত-বিরাতে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারবে এবং পরিবারের কোনো বাধা আপত্তি থাকবে না, এমন দেখে গ্রুপে নেয়া হয়। মাদক কেনাবেচা, এলাকায় প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আয়ের এর অন্যতম কাজ ব্ল্যাকমেইল করা।

শহরের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে তাদেরকে কিশোরী মেয়েদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বাসায় আগুন জালানো হয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর তা ফাঁস করে দেয়া এবং পুলিশের ভয় দেখিয়ে চলে অর্থ আদায় ।

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং বাহিনীর বিষয়ে কুষ্টিয়ার অ্যাডিশনাল এসপি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে অনেকটা অভিভাবকদের উদাসিনতা দায়ী। পুলিশের কাজ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা। কিন্তু কিশোরদের অপরাধী তৈরি হয়ে ওঠার আগেই পারিবারিকভাবে তা দমন করা যায়। তিনি আরো বলেন, কিশোরদের প্রতি সবাইকে সহনশীল হতে হবে। শিশু-কিশোরদের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি। স্কুলগামী শিশু ও কিশোরদের দিকে অভিভাবকরা যথাযথ নজর দিলে কিশোর অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার এসপি এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, বেশ কিছু ঘটনায় কিশোর অপরাধীদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শহরে যাতে কিশোররা কোনো অপরাধ করতে না পারে সে জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে সবাইকে সহনশীল হতে হবে। শিশু-কিশোরদের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি। তাই পরিবারকে থেকেই পরিবর্তন আসতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/জেডএম