নাজিরারটেকে পুরোদমে চলছে শুঁটকি উৎপাদন

ঢাকা, রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১১ ১৪২৭,   ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নাজিরারটেকে পুরোদমে চলছে শুঁটকি উৎপাদন

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫১ ২৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৪৫ ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

শুঁটকি পরিচর্যায় ব্যস্ত এক নারী শ্রমিক

শুঁটকি পরিচর্যায় ব্যস্ত এক নারী শ্রমিক

বঙ্গোপসাগর থেকে সংগ্রহ করা ছুরি, লইট্ট্যা, রূপচাদা, কোরাল, সুরমা, পোয়াসহ ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির শুঁটকি এখানে শুকানো হয়। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় ছুরি ও লইট্যা। কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল শীত আসতেই কর্মচাঞ্চল্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। 

যদিও এবার শীতের শুরুতে বৃষ্টিতে শুঁটকি উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, উৎপাদন বাড়াতে মহালে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শুঁটকি শ্রমিকরা। প্রতিটি শুঁটকি মহালে শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাছ পরিষ্কার করছেন, কেউ মাচায় তুলছেন। কথা বলারও ফুসরত নেই তাদের।

নাজিরারটেক শুঁটকি ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আতিক উল্লাহ জানান, এ বছর সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে তুলনামূলক কম। সে কারণে উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কক্সবাজার শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেঁষে প্রায় ১০০ একর বালুচরজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল। শুধুমাত্র সূর্যের তাপে বিভিন্ন ধরনের মাছ শুকানো হয় এখানে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু নাজিরারটেক নয়, প্রতিবছরের মতো শীত মৌসুমের শুরু থেকে মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়াসহ জেলার উপকূলীয় বিভিন্ন শুঁটকি মহালে শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। সাগরের বেড়িবাঁধ এবং বিশেষ উপায়ে তৈরি বাঁশের মাচার ওপর পাতলা করে বিছিয়ে সূর্যের তাপে কাঁচা মাছ শুকিয়ে শুঁটকিতে পরিণত করা হয়।

শুঁটকি মহালের ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে মাছ শুকাতে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে এখন পুরোদমে উৎপাদন চলছে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকানো হলেও এই চালানে ছুরি এবং লইট্ট্যা বেশি।

তারা বলেন, বর্ষাকাল ছাড়া বছরের নয়মাস এখানে শুঁটকি উৎপাদন চলে। তবে মাত্র কিছুদিন আগে সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এখন সাগর থেকে মাছ আসা শুরু হয়েছে। সারাদিন কাজ করে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় হয়। এতেই টানাপোড়নের মধ্যে চলে সংসার।

তারা আরো বলেন, দৈনিক এবং মাঝে মাঝে কন্ট্রাক্টে আমরা কাজ করি। মজুরি তুলনামূলক কম, তবুও কি করবো, পেট তো চালাতে হচ্ছে। এভাবেই আমাদের দিন চলে যাচ্ছে। 

নাজিরারটেক শুঁটকি ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আতিক উল্লাহ জানান, নাজিরারটেক শুটকি মহালে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক আড়ত রয়েছে। এটিই দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি মহাল। এ মহাল থেকে  প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বিভিন্ন জাতের শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। প্রতি মৌসুমে উৎপাদন হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন শুঁটকি। যার বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তবে করোনা মহামারী এবং সাগর থেকে মাছ কম ধরা পড়ার কারণে এ বছর উৎপাদন কম হতে পারে।

জেলা মৎস্য কর্মকতা এসএম খালেকুজ্জামান বলেন, শুধু কক্সবাজারে নয়, এখানে উৎপাদিত শুঁটকি দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। দেশের মানুষের প্রোটিনের বড় একটি অংশ কক্সবাজারে উৎপাদিত শুঁটকি থেকে পূরণ হচ্ছে। এমনকি শুঁটকির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশে রফতানিও হচ্ছে এখান থেকে।

শুঁটকিতে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এক সময় মাছের পচন রোধের জন্য এখানকার ব্যবসায়ীরা কীটনাশক ব্যবহার করতো বেশি। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা তাদের সচেতন করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/জেডএম