আমনের দামে কৃষকের মুখে হাসি 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১৪ ১৪২৭,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আমনের দামে কৃষকের মুখে হাসি 

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২৬ ২৭ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৫৪ ১২ ডিসেম্বর ২০২০

কৃষকরা মাঠ থেকে ধান কেটে তা ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন বাহনে করে বাড়ির উঠানে তোলার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন

কৃষকরা মাঠ থেকে ধান কেটে তা ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন বাহনে করে বাড়ির উঠানে তোলার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন

কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় পুরোদমে চলছে হয়েছে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কৃষকরা মাঠ থেকে ধান কেটে তা ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন বাহনে করে বাড়ির উঠানে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বাজারে আমন ধানের কাঙ্ক্ষিত মূল্য থাকায় এখানে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আমন ধানের খড় এখানে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় খড়ের মূল্যও এখানে অনেকাংশে বেড়েছে। এর ফলে এখানকার কৃষকরা এবার আমন চাষে লাভের মুখ দেখছেন।

এখানকার হাট-বাজারে প্রতিমণ মোটা আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। অপরদিকে, চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এতে করে এক বিঘা জমি থেকে উৎপাদিত আমন ধান বিক্রি করে কৃষকের হাতে আসছে ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা।

এখানে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় ৬ হাজার টাকা বাদ দিয়ে এক বিঘা আমন ক্ষেত থেকে ধান বিক্রি করে কৃষক ১১ হাজারর থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ করছেন। এছাড়া ধানের খড় গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন বাড়তি লাভ।

ধান কেটে বাড়ি ফিরছেন কৃষক  

এক বিঘা জমির ধানের খড় ক্ষেতেই বিক্রি করে এখানকার কৃষকরা লাভ করছেন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। বন্যার ধকল থেকে এখানকার উঁচু এলাকার কৃষকরা আমন চাষে হয়েছেন লাভবান। তারা বন্যার ক্ষতি থেকে নিজেদের ঘুরে দাঁড়াবার সুযোগ পেয়েছেন।

এখানে পরপর পঞ্চম দফার বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায় নিম্নাঞ্চলের কৃষকের আমন ক্ষেত। অনেক চেষ্টা চালিয়েও পরিবারের খাবারের প্রধান মাধ্যম ধানক্ষেত রক্ষা পারেনি এখানকার নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা। তবে উঁচু স্থানের আমন ক্ষেত তেমন নষ্ট হয়নি। 

তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে উঁচু স্থানের আমন ক্ষেতে প্রথমে দেখা দেয় তীব্র পোকার আক্রমণ। এ অবস্থায় কৃষকরা ভালোভাবে ওষুধ স্প্রে করার চেষ্টা করলে পোকার হাত থেকে রক্ষা পায় উঁচু স্থানের আমন ক্ষেত। এতে বেড়ে যায় আমনের ফলন। 

স্থানীয় কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, কুড়িগ্রামের দফায় দফায় বন্যার ক্ষতি থেকে আমরা উঁচু স্থানের কৃষকরা আমনের ভালো উৎপাদনে ঘুরে দাঁড়াবার সুযোগ পেয়েছি। তিনি তার ৩ বিঘা জমিতে আমন চাষ করে বিঘা প্রতি ১৬ মণ ধান পেয়েছেন। 

তিনি আরো বলেন, আমার জমির উৎপাদিত ধান থেকে পরিবারের সদস্যদের খাবারের জন্য ১৩ মণ ধান রেখে অবশিষ্ট ধান তিনি ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করেছেন। এছাড়া ৩ বিঘা জমির ধানের খড় ক্ষেতেই বিক্রি করেছেন সাড়ে ৭ হাজার টাকায়। খড় বিক্রিতে তার বাড়তি আয় হয়েছে।

অপর কৃষক ছবরুল হোসেন জানান, নদী পার্শ্ববর্তী তার নিচু জমির আমন ক্ষেত এবারের দফায় বন্যায় নষ্ট হলেও তার উঁচু স্থানের ৫ বিঘা জমির আমন ধান তাকে ঘুরে দাঁড়াবার সুযোগ করে দিয়েছে। এসব জমি থেকে তিনি বিঘাপ্রতি প্রায় ১৬ মণ ধান পেয়েছেন।

তিনি আরো জানান, ধান কাটা, ঘোড়ার গাড়ি করে বাড়ির উঠানে আনা ও মাড়াইসহ তার বিঘাপ্রতি উদপাদন খরচ যায় প্রায় ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকা। আমন ধানের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় উদপাদন খরচ বাদ দিয়ে তিনি আমন ধান বিক্রি লাভ করেছেন ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।

স্থানীয় ধান পাইকার অপূর্ব লাল সেন জানান, এবার কুড়িগ্রামে উঁচু স্থানে আমনের মোটামুটি ফলন ভালো হয়েছে। চিটার পরিমাণও অন্যান্যবারের চেয়ে কম। আমন ধানের বাজার মূল্যও বেশ। তিনি প্রতিমণ আমন ধান (মোটা জাতের) কিনছেন ১ হাজার টাকায়। চিকন জাতের ধান কিনছেন ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রাজু বলেন, এবার কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় এবার আমন চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ১৫ হাজার ১০০ হেক্টর জমি। কিন্তু উৎপাদন বেশি হওযায় এই লক্ষমাত্রাকে ছাড়িয়ে অর্জিত হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৮০৫ হেক্টর। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতি হয় নিম্নাঞ্চলের ৫ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত।

তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে পুরোদমে এখানে আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। এখানে এবার আমন ধান বিঘায় ১৪ থেকে ১৬ মণ ও হেক্টর প্রতি ৪ থেকে ৫ টন ধান উৎপাদানের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/জেডএম