সুনীল-ফিরোজ-মিল্টনের হাতে নড়াইল জাপার নিয়ন্ত্রণ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৭ ১৪২৭,   ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সুনীল-ফিরোজ-মিল্টনের হাতে নড়াইল জাপার নিয়ন্ত্রণ

নড়াইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০১ ২৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৪ ২৬ নভেম্বর ২০২০

সুনীল শুভ রায়, ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ ও মিল্টন মোল্যা

সুনীল শুভ রায়, ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ ও মিল্টন মোল্যা

নড়াইলে টাকার বিনিময়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ কিনেছেন অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ ও মিল্টন মোল্যা। তাদের পদ পেতে সহযোগিতা করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়। নেতা-কর্মীদের প্রিয়পাত্র না হলেও জেলা জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছেন তারা।

নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, নিজ পেশা নিয়ে জেলার বাইরে ব্যস্ত থাকেন ফিরোজ ও মিল্টন। মাঝে-মধ্যে অতিথি হয়ে এলাকায় বেড়াতে এলেও নিজেদের লোক ছাড়া দলের বাকিদের কোনো খোঁজ নেন না। এ দুই শীর্ষ নেতার অবহেলায় আজও স্থায়ী কার্যালয় পায়নি নড়াইল জাতীয় পার্টি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয় বলতে নড়াইল চৌরাস্তায় রয়েছে ছোট্ট একটি তালাবদ্ধ ঘর ও নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড। নেতাদের অবহেলা, কার্যালয়ের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে জেলায় জাতীয় পার্টির কর্মকাণ্ডেও গতিশীলতা নেই। দিনদিন অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে নড়াইল জাতীয় পার্টি। দলবিমুখ হচ্ছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ জুলাই অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজকে সভাপতি ও মিল্টন মোল্যাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টি। ওই কমিটি থেকে বাদ পড়েন জেলা পর্যায়ের অনেক ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতা। এতে অসন্তোষ দেখা দেয় তৃণমূল পর্যায়ে। কমিটি বাতিল করা ও যোগ্য নেতাদের পদ দেয়ার লিখিত দাবি জানিয়েছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী, যা ফলপ্রসূ হয়নি।

নড়াইল জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি শরীফ মুনীর হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী সুনীল শুভ রায় একজন দুর্নীতিবাজ নেতা। তিনি কোনো বর্ধিত সভা, সম্মেলন না করে টাকার বিনিময়ে ফায়েকুজ্জামান ফিরোজকে সভাপতি ও মিল্টন মোল্যাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। তার কারণেই কমিটি থেকে বাদ পড়েন অনেক জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতা। বিষয়টি হাইকমান্ডে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।

শরীফ মুনির আরো জানান, ফিরোজ ও মিল্টন নামেই সভাপতি-সম্পাদক। দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডেই তাদের ভূমিকা নেই। জেলার অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মী তাদের ঘৃণা করেন। বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কারণে নড়াইলে জাতীয় পার্টির সুনাম নষ্ট হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ বলেন, নড়াইলে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় পার্টির কমিটি রয়েছে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ঠিকঠাক চলছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া আমি ঢাকায় আইন পেশায় নিযুক্ত থাকলেও প্রতি সপ্তাহে নড়াইলে আসি। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এইচএন